আজ মঙ্গলবার, ১১ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২৫শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

একজন সরব, অন্যজন নীরব

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপি-জামায়াতের দেয়া টানা অবরোধ ও নৈরাজ্য প্রতিহত করতে মাঠে নেমেছে মহাজোটের নেতৃত্বাধিন দল আওয়ামী লীগ। জোটের শরীক দল হিসেবে জাতীয় পার্টির এমপি লিয়াকত হোসেন খোকাও তার নির্বাচনি অঞ্চল সোনারগাঁয়ে সরব ভূমিকায় আছেন। তবে এই জেলায় জাতীয় পার্টির আরেক এমপি সেলিম ওসমানের চিত্র পুরোটাই ভিন্ন। বিএনপি-জামায়াতের লাগাতার আন্দোলন সংগ্রাম চলমান থাকলেও এর বিরুদ্ধে মাঠে নামতে দেখা যায়নি তাকে। এমনকি তার অনুগত জাতীয় পার্টির কর্মীরাও নীরব ভূমিকায় আছেন। তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের মাঝে।
অনেকেই বলছেন, আওয়ামী লীগের সাথে জোটগত কারণেই জাতীয় পার্টি থেকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি হয়েছেন সেলিম ওসমান। বর্তমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ যখন বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে, তখন সদর-বন্দরে জাতীয় পার্টি থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা পাচ্ছেন না তারা।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের মধ্যে দুটিতে রয়েছে জাতীয় পার্টির এমপি। এর মধ্যে সোনারগাঁ উপজেলা নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও অতিরিক্ত মহাসচিব লিয়াকত হোসেন খোকা এবং সদর-বন্দর নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সেলিম ওসমান।
এমপি নির্বাচন করার আগে থেকে লিয়াকত হোসেন খোকা জাতীয় পার্টির রাজনীতির সাথে পুরোদস্তর সম্পৃক্ত থাকলেও সেলিম ওসমান ছিলেন আপাদমস্তক ব্যবসায়ী। বড় ভাই নাসিম ওসমানের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে নাম লেখান তিনি। ২০১৪ সালের উপ-নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে লাঙ্গল প্রতিক নিয়ে এমপি নির্বাচিত হন সেলিম ওসমান। ওই নির্বাচনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা সেলিম ওসমানের হয়ে মাঠে কাজও করেছিলেন।
তবে আওয়ামী লীগ নেতাদের অভিযোগ, সেলিম ওসমান এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর বন্দরে আওয়ামী লীগ নেতাদের একাংশ জাতীয় পার্টি দ্বারা নিগৃত হয়েছেন। তার সাথে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি পক্ষ সখ্যতা রেখে চললেও পরীক্ষিত নেতারা বঞ্চিত হয়েছেন। বন্দরে আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িতে জাতীয় পার্টির নেতারা হামলাও চালিয়েছিলেন। এতে দলীয় এমপি না থাকার আক্ষেপ জেঁকে বসেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের মাঝে। ইতিমধ্যেই নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নৌকার দলীয় প্রার্থী চেয়ে জোড়ালো আওয়াজ তুলেছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।
জানা গেছে, সোনারগাঁয়ের এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা রাজনীতির মাঠ থেকেই উঠে এসেছেন। তিনি জেলা পর্যায়ে রাজনীতি করার পর বর্তমানে জাতীয় পর্যায়ে জাতীয় পার্টির নেতৃত্ব পেয়েছেন। দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য সহ হয়েছেন ঢাকা বিভাগীয় অতিরিক্ত মহাসচিবও। এছাড়াও জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টির সভাপতিও তিনি।
অন্যদিকে, এমপি সেলিম ওসমান প্রসিদ্ধ রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হলেও ব্যক্তিগত ভাবে তিনি ব্যবসা বাণিজ্য নিয়েই ছিলেন। আপাদমস্তক এই ব্যবসায়ী নেতা রাজনীতিতে অবস্থান গড়ে তুলতে পারেনি। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য হলেও তিনি মাঠের রাজনীতিতে নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি। আন্দোলন সংগ্রামে তাকে মাঠে পাওয়া যায় না। অবশ্য তার শারীরিক সক্ষমতাও তেমন নেই বলে জানিয়েছে তার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো।
তবে বোদ্ধা মহল বলছেন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে নিজে মাঠে না নামলেও সদর বন্দরে তার অনুগত জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের অন্তত মাঠে নামাতে পারতেন তিনি। কিন্তু এসব নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামাতে দেখা যায় না সেলিম ওসমানকে।
অন্যদিকে, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের একটি পক্ষের সাথে বিরোধ থাকলেও সোনারগাঁয়ে কাজের কাজ ঠিকই করে যাচ্ছেন এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা। তিনি সোনারগাঁয়ের জাতীয় পার্টি এবং অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাদের নিয়ে শুরু থেকেই মাঠে আছেন। ২৮ অক্টোবর ঢাকার মহাসমাবেশ থেকে শুরু করে পরবর্তী হরতাল এবং টানা অবরোধগুলোতে বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্য প্রতিহত করার জন্য রাজপথে অবস্থান নিয়েছেন। গতকালও তিনি সোনারগাঁয়ের মোগরাপাড়া এলাকায় অবস্থান নেন।
এদিকে, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমান ও সদর-বন্দরে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে মাঠে না নামায় অনেকেই তাদের সুবিধাবাদি হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। এই বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন দৈনিক সংবাদচর্চাকে বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের জাতীয় পার্টির এমপি মাঠে নেমেছে, কিন্তু নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি (সেলিম ওসমান) মাঠে নামছে না। কেন নামছে না সেটা তিনিই ভালো বলতে পারবেন। তিনি (সেলিম ওসমান) তো জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এরশাদের চাইতেও বঙ্গবন্ধু এবং তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্লোগাণ বেশি দেয়। মুখে যেই স্লোগাণ দেয়, যেই কথা বলে, কাজে তো তার বাস্তবায়ন নেই। যদি বাস্তবায়ন থাকতো, তাহলে এই অবস্থায় বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে তিনিও তার দলের নেতাকর্মী নিয়ে মাঠে নামতেন। আসলে তিনি সুবিধাবাদি, এটাই কমন বিষয়।’

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ