আজ বৃহস্পতিবার, ১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৩০শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

একই পরিবার দুই দিকে

বিশেষ প্রতিবেদক :

গেল ৩০ এপ্রিল রবিবার। ওসমান পরিবারের বড় সন্তান চারবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা নসিম ওসমানের ৯তম মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে দিনব্যাপী ছিল নানা আয়োজন। পরিবারের পক্ষ থেকে কোরআন খতম, দোয়া ও নাসিম ওসমানের সমাধিতে হযেছে বিশেষ মোনাজাত। তবে একই পরিবারের অংশ হলেও প্রয়াত নাসিম ওসমানকে নিয়ে দ্বিখন্ডিতভাবে কর্মসূচী পালন করা হয়েছে। এ নিয়ে জেলা জুড়ে বইছে এখন তুমুল সমালোচনার ঝড়।
শুধু তাই নয়, পরিবারটি ঘিরে অর্ন্তকোন্দল বারবারই স্পষ্ট করেছে পরিবারের সদস্যরাই। বিশেষ করে প্রয়াত নাসিম ওসমানের স্ত্রী, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম মেম্বার পারভীন ওসমান ও সন্তান আজমেরী ওসমানকে ইঙ্গিত করে বিভিন্ন বক্তব্য দিয়ে সমালোচিত হয়েছে সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। যিনি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য বড় ভাই নাসিম ওসমানের মৃত্যুর পর একই আসনে সংসদ সদস্য হওয়ার সুযোগ পান।
সম্প্রতি, বন্দরে মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া অনুষ্ঠানেও কারো নাম না বললে এক হুশিয়ারী দিয়ে এক বক্তব্যে তিনি বলেছেন, শান্তিপূর্ণ বন্দরকে অশান্ত করবেন না। সন্ত্রাসী হিসেবে গন্য হইয়েন না। আপনি যেই হউন, থাকতে পারবেন না। এখনও সময় আছে সংশোধন হউন। আসুন ক্ষমা চান। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিব। কিন্তু সন্ত্রাসী করবা, জায়গা দখল করবা কোন ছাড় দিব না। কলাগাছিয়ায় আমার মেম্বারের কাছে ১ লাখ টাকা চায়। কোন সন্ত্রাসীকে প্রশ্রয় দিবেন না।
এরআগে, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সাধারণ সভায় জেলা প্রশাসককে ঝুট সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সেলিম ওসমান বলেছিলেন, বর্তমানে কিছু উচ্ছৃঙ্খল ছেলেপেলের জন্ম হয়েছে এই নারায়ণগঞ্জে। সেখানে আবার নেতৃত্ব দেওয়া হয়। সেই নেত্রীকে বলা হয় ‘হাম্মাজান’। আরেকটা আছে ‘ভাইজান’ গ্রুপ। এতগুলো মানুষ একত্রিত হলে এমন কোনো মায়ের বেডা জন্মাইছে, নারায়ণগঞ্জে তারা বাহাদুরি কিংবা সন্ত্রাস করবে। মোটরসাইকেল বাহিনী চলবে না।” তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, ‘কেউ কোনোদিন বলবেন না ওসমান পরিবারের সদস্য। হাতের পাঁচ আঙুল যেমন এক হয় না, ওসমান পরিবারের পাঁচটা আঙুলও আলাদা আলাদা রকমের আছে, সবগুলো এক সমান না। সুতরাং, আপনাদের ভয়ের কোনো কারণ নাই।
এছাড়াও, নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনের প্রয়াত সাংসদ এ কে এম নাসিম ওসমানের স্ত্রী ওসমান পরিবারের কেউ নন বলে মন্তব্য করেছেন এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। সেলিম ওসমান তাঁর ভাবি পারভীন ওসমানের সমালোচনা করে বলেন, আমার ভাবির বাড়ি নোয়াখালী। কিন্তু উনি নারায়ণগঞ্জের এমপি হতে চান৷ উনি ওসমান পরিবারের কেউ না। নিতাইগঞ্জের নলুয়াপাড়ায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের শৃঙ্খলা রক্ষায় এক মতবিনিময় সভায় সেলিম ওসমান এসব কথা বলেছিলেন।
তাছাড়া, বন্দরে আলহাজ্ব নাসিম ওসমান তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেতুটি উদ্বোধন করেন। সেই সময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান, ৩ আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা, ৪ আসনের সংসদসদস্য শামীম ওসমানসহ অনেকেই। কিন্তু সেইখানে উপস্থিত ছিলেন না নাসিম ওসমান এর সহধর্মিণী জাতীয় পার্টি প্রেসিডিয়াম সদস্য পারভীন ওসমান ও একমাত্র পুত্র আজমেরী ওসমান, কন্যা, নাতি-নাতনীদের কেউই। এতে সাধারণ নেতাকর্মীদের মাঝেও সেসময় ক্ষোভ দেখা গেছে।
তবে এসব বিষয়ে পারভীন ওসমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, এসব বিষয়ে আমি কিছু বলব না। আমি আমার পরিবার নিয়ে আছি। আমার স্বামী নাসিম ওসমানকে মানুষ ভালবাসে। সকলের যে ভালবাসা আমরা পেয়েছি তাতেই আমরা সন্তুষ্ট। যে যা ইচ্ছা বলুক কারো ব্যপারে আমরা মন্তব্য করতে চাইনা।
এদিকে মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রয়াত নাসিম ওসমানের ছোট ভাই নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের পক্ষ থেকে দোয়া করা হয়েছে। সকাল ১১টায় পুরান বন্দর চৌধুরী বাড়ি এলাকায় অবস্থিত নাসিম ওসমান মডেল হাইস্কুল মাঠ প্রাঙ্গনে এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চন্দন শীল, বন্দর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান এমএ রশিদ, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক কাজিম উদ্দিন প্রধাণ, বন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম কুদরত ই খুদা, অফিসার ইনচার্জ আবু বকর ছিদ্দিক, জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি তথা ভাইস চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ সানু, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সালিমা হোসেন শান্তা, মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি দুলাল সাহা, সাধারণ সম্পাদক কাউন্সিলর আফজাল হোসেন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি জুয়েল হোসেন, সাবেক সাধারন সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ দুলাল প্রধান, ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খান মাসুদ, মদনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গাজী এমএ সালাম, ধামগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ, কলাগাছিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান, জেলা পরিষদের সদস্য মাসুম আহমেদ, বন্দর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ফয়সাল কবির প্রমূখ। এরপরই জোহরের নামাজ আদায় করে মাসদাইর কবরস্থানে বড় ভাই নাসিম ওসমানের কবরের সামনে দাঁড়িয়ে দোয়া করেন শামীম ওসমান।
অপরদিকে, স্বামী এবং পিতার হয়ে একান্তই পৃথকভাবে শোকার্ত দিনটি পালন করেছেন স্ত্রী ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম মেম্বার পারভীন ওসমান এবং পুত্র আজমেরী ওসমান। বেলা হতেই সাবেক সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের সমাধিতে বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় কর্মসূচী। এরপর শহরের অর্ধশতাধিক স্পটে আয়োজিত অনুষ্ঠানগুলোতে তারা অংশ নেন। হাজার হাজার মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয় রান্না করা খাবার। প্রিয় নেতা নাসিম ওসমানের স্মরণে কোথাও কোথাও কাঙ্গালেীভোজের পাশাপাশি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের নিযে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন তারাও। স্ত্রী ও পুত্র ছাড়াও এসব অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, পুত্রবধূ সাবরীনা ওসমান জয়া ও নাতি আরহাম ওসমান আলীফ। এই পরিবারের সদস্যদের সাথে উপস্থিত ছিলেন প্রয়াত নেতা নাসিম ওসমানের নেতাকর্মী, জাতীয় ছাত্র সমাজ নেতৃবৃন্দ ও স্ত্রী এবং ছেলের হাজারো কর্মী সমর্থক। পরিবারটি ব্যক্তিগত গাড়ি বহরে করে শহরের ইসাদাইর, গাবতলী, চাষাঢ়া, খানপুর, মেট্রোহল, ডিআইটি, সৈয়দপুর, বাপ্পি চত্ত্বর, গাবতলী, হাজিগঞ্জ, পঞ্জবটি, সিদ্ধিরগঞ্জসহ বিভিন্নস্পটে ঘুরে সন্ধ্যা পর্যন্ত নেতাকর্মীদের সাথে কাটায়।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ