আজ বুধবার, ১১ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২৪শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

ঈদের পর পূর্নাঙ্গ কমিটি

স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের পূর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হবে হচ্ছে করেও ঝুলে আছে। কবে নাগাদ ঘোষণা আসবে কিংবা কেমন হবে পূর্নাঙ্গ কমিটি; সেই আলোচনা ছিলো স্থানীয় নেতাকর্মীদের মুখে মুখে। বিশেষ করে, সম্মেলনের পর সভাপতি-সেক্রেটারির দেয়া পৃথক দুই খসড়া কমিটি নিয়ে তোলপাড় বেধেছিলো দুই মেরুতেই। কমিটিতে নিজ নিজ বলয়ের আধিক্য বাড়াতে অনেকেই ছুটেছিলেন কেন্দ্রের দিকে। এরই মাঝে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আবহ শুরু হলে সংগত কারণেই থমকে যায় কমিটি কেন্দ্রীক আলোচনা। সেই আলোচনার পালে এবার নতুন করে হাওয়া লেগেছে। দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ঈদের পরই আসতে যাচ্ছে জেলা আওয়ামী লীগের পূর্নাঙ্গ কমিটি।
জানা গেছে, দীর্ঘ দুই যুগ পর ২০২২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ওসমানী পৌর স্টেডিয়ামে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে পূর্বের কমিটির সভাপতি আবদুল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদলকে স্বপদে বহাল রেখে ১৫ দিনের মধ্যে নতুন খসড়া কমিটি কেন্দ্রে জমা দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। যদিও মেরুগত টানাপোড়েনের ফলে কয়েক মাস পর পৃথক ভাবে কমিটির খসড়া তালিকা কেন্দ্রে জমা দেন সভাপতি এবং সেক্রেটারি।
এর মধ্যে গত বছরের ১৮ই মার্চ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই তার প্রস্তাবিত পূর্নাঙ্গ কমিটির খসড়া তালিকা কেন্দ্রে প্রেরণ করেন। এতে দেখা যায়, যুগ্ম সম্পাদক পদে তিনি জাহাঙ্গীর আলম, ইকবাল পারভেজ এবং অ্যাডভোকেট মফিজ উদ্দিনের নাম প্রস্তাব করেছেন।
এর প্রায় দেড় মাস পর গত বছরের ৩০ এপ্রিল কেন্দ্রে পৃথক খসড়া কমিটি প্রেরণ করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদল। এতে দেখা যায়, তিনি যুগ্ম সম্পাদক পদে ডা. আবু জাফর চৌধুরী বীরু, নাজমুল আলম সজল এবং মীর সোহেলের নাম প্রস্তাব করেছেন।
পর্যালোচনায় দেখা যায়, উভয়ের খসড়ায় যুগ্ম সম্পাদক পদ ছাড়ও সহ-সভাপতি, সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সদস্য পদ সহ বেশ কিছু পদের নামের তালিকায় বেশ অমিল রয়েছে। দুই খসড়া তালিকাকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জে বিদ্যমান দুটি মেরুতেই পক্ষে-বিপক্ষে নানা আলোচনা-সমালোচনা শোনা গিয়েছিল।
যদিও অনুসন্ধানের পর উভয়ের প্রস্তাবিত খসড়ার সমন্বয়ে একটি শক্তিশালি পূর্নাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দিবেন প্রধানমন্ত্রী; এমনটা জানিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় নেতারা। তবে নানা ব্যস্ততায় জেলা কমিটির অনুমোদন আসেনি। এরই মাঝে নির্বাচনের সময় চলে আসায় কমিটির বিষয়টি আড়ালে চলে যায়। এবার ঈদের পর জেলা আওয়ামী লীগের পূর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হবে বলে আলোচনা চলছে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই দৈনিক সংবাদচর্চাকে বলেন, ‘আমরা বহু আগেই কেন্দ্রে খসড়া কমিটির তালিকা পাঠিয়েছি। তবে আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয়ে ব্যস্ত থাকায় পূর্নাঙ্গ কমিটির অনুমোদন আসেনি। যেহেতু নির্বাচন শেষ হয়েছে, আমরা কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে আলোচনা করেছি। ঈদের পর পূর্নাঙ্গ কমিটি আসতে পারে।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ দুই নেতার মধ্যকার সম্পর্কের রঙ বদলেছে বারংবার। নানা বিষয়ে তারা যেমন দ্বিমত পোষন করেছিলেন, তেমনই ক্ষেত্র বিশেষে একে অপরের পাশেও ছিলেন। সবশেষ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের পরপরই দুই নেতার মাঝে দূরত্ব প্রকাশ পায় মোটা দাগে। তারা সমন্বয় ছাড়াই পৃথক ভাবে খসড়া তালিকা দেন কেন্দ্রে। এক্ষেত্রে কার প্রস্তাবিত কমিটির অনুমোদন মিলবে তা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে।
এই বিষয়ে জানতে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদলের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোনের সংযোগ পাওয়া যায়নি।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ