আজ মঙ্গলবার, ১লা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৬ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

আক্রান্ত হচ্ছে বিএনপি

বিশেষ প্রতিবেদক:

আড়াইহাজারে থামছে না দ্বন্দ্ব। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে গ্রুপিং, হামলা। মার খাচ্ছে বিএনপির কর্মী সমর্থকরা। গতকাল স্বজনদের সামনেই যুবদল নেতা মাহবুব আলমকে (৩০) হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে, কুপিয়ে ও চোখ উপড়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। এ সময় মাহবুবকে বাঁচাতে তাঁর বাবা-মা-ভাই এবং চাচার অনুনয় বিনয় ও প্রাণভিক্ষার আঁকুতিতে কর্ণপাত করেনি ঘাতকরা।
মঙ্গলবার সকালে আড়াইহাজারের দুপ্তারা ইউনিয়নের সিংরাটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

সুত্রের খবর মাহাবুব সিংরাটি এলাকার হানিফ মিয়ার ছেলে এবং দুপ্তারা ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক। অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা হাশমত আলী ঘটনার পর থেকে পলাতক। তিনি দুপ্তারা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি। এ ছাড়া হাশমত সম্পর্কে মাহবুবের খালাতো বোনের স্বামী হলেও তাঁদের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ ছিল।

যুবদল নেতাকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিএনপি। উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী ভূঁইয়া জানান, রাজনৈতিক কারণে যুবদল নেতা মাহবুবকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এর বিচার ও খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার চাই।

তবে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনিরের দাবি, রাজনৈতিক নয় বরং পারিবারিক টাকাপয়সার লেনদেন নিয়েই এ খুন হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ -২ ( আড়াইহাজার) আসনের বিএনপির সাবেক এমপি আতাউর রহমান খাঁন আঙ্গুর জানান, আমরা সহিংসতা পছন্দ করি না। আমরা মিটিং মিছিল করতে পারি না। আমাদের কর্ম সমর্থরা মিটিং,মিছিল শেষে বাড়ি ফেরার পথে আওয়ামী লীগের গুন্ডাবাহিনী দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে। আমাদের নেতাকর্মীরা মারা যাচ্ছে। আমরা এর নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাই।
তিনি আরও জানান, আমরা কোন বাঁধা মানবো না। আমাদের আন্দোলন চলবে। রাজনীতিতে তারাহুরা করে বড় হওয়া যায় না। সিরিয়াল অনুযায়ী নেতৃত্ব সৃষ্টি হয়। আমার কোনো গ্রুপ নেই ।

জানা গেছে, একই গ্রামের হাশমত মিয়ার কাছে মাহাবুব একটি জমি বিক্রির জন্য ৩ লাখ টাকা বায়না নেয়। কিন্তু কিছু দিন যাবৎ হাশমত বায়নার টাকা ফেরত চাচ্ছিল। সেই টাকা দিতে না পারায় তাকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয় বলে তার পরিবার অভিযোগ করে।
মাহাবুবের বাবা হানিফ মিয়া ও মা তাহেরা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাংবাদিকদের জানান, ওরা প্রভাবশালী। তাই আমাদের সামনেই পোলাডারে পিটাইয়া মাইরা ফালাইল। আমরা এর বিচার চাই।

আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক তৈয়ব বলেন, এ ঘটনায় কিসমত ও কামাল, পাবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে আরও ৫ জনকে। প্রধান অভিযুক্ত হাশমত পলাতক আছেন। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। দু’পক্ষের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। লাশ নারায়ণগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে আছে।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ