১০ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, রাত ৮:৩৩

আইভীর খোঁজ রাখছেন প্রধানমন্ত্রী

সংবাদচর্চা রিপোর্ট

আমি জাহাঙ্গীর কবীর নানকও কিন্তু অপরিহার্য নই। সুতরাং এত অহঙ্কার দেখাবেন না। মনে রাখবেন, অহঙ্কার পতনের মূল। সব খবরই নেত্রী রাখেন। তিনি স্নেহ করেন বলেই আমরা এই পর্যায়ে এসেছি। কিন্তু তিনি যখন কঠোর হোন, তখন তিনি কাউকেই ছাড় দেননা। সুতরাং এই নির্বাচনে যদি আপনারা কেউ কোনো কারসাজি করার চিন্তাও করে থাকেন, সেখান থেকে সরে আসুন, এখনও সময় আছে। বুধবার বিকেলের দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাদের উদ্দেশ্য করে আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলির সদস্য জাহাঙ্গীর কবীর নানক ওই কথাগুলো বলেছেন। এদিন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে শহরের দুই নং রেল গেট এলাকায় আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সঙ্গে যৌথ সভায় মিলিত হন তিনিসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। তার সাথে এই সভায় বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজমসহ আর সাতজন উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে আওয়ামী লীগের একটি অংশকে ইংগিত করে জাহাঙ্গীর কবীর নানক আরও বলেছেন, আপনারা ভুলে যাবেন না আইভী শেখ হাসিনার প্রার্থী। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী। আমি যখন মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে ছিলাম, তখন নেত্রী আমাকে ফোন করে জানতে চেয়েছিলেন, ‘আমার আইভীর কী খবর’। সুতরাং বুঝতেই পারছেন, নির্বাচন নিয়ে কারো মনে যদি কিছু থেকে থাকে, তাহলে তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ওই অংশকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, আইভী একজন পরিচ্ছন্ন নেত্রী। সারা বাংলাদেশের মানুষের কাছেই তার অসম্ভব রকম গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। সবাই তাকে ভালো জানেন। একমাত্র আপনারাই বলেন, ‘আইভী ভালো না’। এর পেছনে কী কারণ, তা কিন্তু নেত্রী জানেন। সুতরাং নিজেকে অপরিহার্য মনে করে এত অহংকার দেখাবেন না। এছাড়াও নানক সভায় উপস্থিত নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন, আমরা এখানে এসেছি নেত্রীর মেসেজ পৌঁছে দিতে। এই নির্বাচনটাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। আগামী ১৬ জানুয়ারি নির্বাচনে যদি কোনো অঘটন ঘটে তাহলে একজনও ছাড় পাবেন না। কী হচ্ছে, তার সব খবরই কিন্তু নেত্রীর কাছে রয়েছে। সুতরাং এখনও সময় আছে, সব বাজে চিন্তা বাদ দিয়ে আমাদের প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে কাজ করুন।
সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি অ্যাড. খোকন সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ানসহ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের প্রায় ষাট জন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে সভায় উপস্থিত একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় নেতারা নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের একটি অংশকে উদ্দেশ্য করেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তব্য রেখেছেন। তারা আকার ইংগিতে ওই পক্ষটিকে সতর্ক করে দিয়েছেন। নেতাদের বক্তব্য থেকে বোঝা গিয়েছে, স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি অংশের কর্মকাণ্ডে কেন্দ্র সন্তোষ নয়। এদিন কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তব্যে অসম্ভব রকম ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ