১০ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, রাত ৮:৪৭

আইভীকে চায় নগরবাসী

সংবাদচর্চা রিপোর্ট

নির্বাচন কমিশনের ঘোষণার পর নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের দিন গুণছে নগরবাসী। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন ফরমও বিক্রি শুরু করে দিয়েছে। মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন বর্তমান মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীসহ কয়েকজন। আগামী ৩ ডিসেম্বর মনোনয়ন বোর্ডের এক সভায় আওয়ামী লীগের চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণার কথা রয়েছে। কে পাচ্ছেন মনোনয়ন, এ নিয়ে আলোচনায় সরগরম সর্বত্র। তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের একটি বড় অংশ বলছে, নৌকার যোগ্য আইভীই। অন্যদিকে আবারও মেয়র পদে ডা. আইভীকেই চান নগরবাসী। এই চাওয়ার পেছনে কারণ মেয়র আইভীর সততা, সাহস ও কর্মনিষ্ঠা। নগরবাসী বলছে, ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জবাসীর সামনে একটি রূপকল্প হাজির করেছিলেন মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। গত ১০ বছরে উন্নয়নের মধ্য দিয়ে আইভী তার ওয়াদা রক্ষা করেছেন। এই উন্নয়ন কাজ ত্বরান্বিত করতে আইভীকে আরও একবার প্রয়োজন বলে মনে করছেন নগরবাসী।

হিসেব করলে দেখা যায়, গত ১৮ বছর যাবৎ নগরমাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। ২০০৩ সালে আইভী যখন তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে চেয়ারে বসেছিলেন, তখন পৌরসভার ফান্ডে কোন টাকা ছিল না উল্টো বকেয়া ছিল দুই কোটি আট লাখ টাকা। রাস্তায় ঠিক মতো তখন বাতি জ্বলতো না। একটু বৃষ্টি হলেই শহরে হাঁটু পানি জমে যেত। সেই পানি দীর্ঘ সময়েও নামতো না। শহরের অনেক গলিতেই একটা রিকশা প্রবেশ করলে আরেকটা বের হতে পারতো না। জনভোগান্তির যেন শেষ ছিল না। সেই পৌরসভার দায়িত্ব নেওয়ার পর আইভীর ছোয়ায় যেন বদলে যেতে লাগলো সবকিছু। গত ১৮ বছরে পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনে কয়েক হাজার কোটি টাকার কাজ হয়েছে। শিক্ষা, সংস্কৃতি, পরিবেশ, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণে ব্যাপক কাজ করেছেন মেয়র আইভী। এজন্য অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলাও করতে হয়েছে তাকে।

জানা যায়, ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার সাথে অনুন্নত সিদ্ধিরগঞ্জ ও কদমরসূল পৌরসভা যুক্ত করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ঘোষণা করা হয়। সিটির প্রথম নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে দেশের প্রথম নারী মেয়র নির্বাচিত হন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। গত দশ বছরে ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও নিরলস পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে পরিকল্পিত ও আধুনিক নগরী উপহার দিয়েছেন মেয়র আইভী। মেয়র আইভীর পিতা আলী আহাম্মদ চুনকা ছিলেন এই শহরের পরপর দুইবারের নির্বাচিত পৌর চেয়ারম্যান। পিতার মতোই অল্প সময়েই মানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন ডা. আইভী। ২০০৩ সালে পৌর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ২০২১ সালে দ্বিতীয় দফায় সিটি মেয়রের দায়িত্ব পালনকালীন বদলে দিয়েছেন নগরীর চেনা রূপ। উন্নয়নের পাশাপাশি লড়েছেন সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, ভূমিসন্ত্রাসীর মতো দৃশ্যমান গণশত্রুদের বিরুদ্ধে। কেবল নির্বাচনী আশ্বাসই নয়, দীর্ঘ এই রাজনৈতিক জীবনে লড়েছেন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। মেধাবী ছাত্র ত্বকীসহ নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত সকল হত্যাকান্ডের বিচার দাবি করেছেন এবং করে যাচ্ছেন ভরা মজলিশে। অনেকের মতে, রক্তচক্ষুকে ভয় না করার সাহস নগরবাসী পেয়েছেন মেয়র আইভীর কাছে। প্রতিকূলতার মুখে প্রতিবাদের অন্যতম প্রতীক হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি।

বিগত বছরগুলোতে সবুজ ও পরিকল্পিত নগর গড়তে ব্যাপক সড়ক উন্নয়ন, সমন্বিত ড্রেনেজ সিস্টেম, পয়োনিষ্কাশন, জলধার সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবায় কমিউনিটি ক্লিনিক, নগর হাসপাতাল এবং অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু; পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণ, শহর থেকে ট্রাক টার্মিনাল সরানো, এনসিসির আয় বৃদ্ধির জন্য নিজস্ব ভূমিতে মার্কেট ও ফ্ল্যাট নির্মাণ এবং কাঁচাবাজারসমূহের উন্নয়ন, কবরস্থান ও শ্মশানের উন্নয়ন, বিনোদনের জন্য পার্ক নির্মাণ, শীতলক্ষ্যা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ, নারায়ণগঞ্জকে মেট্রোরেলের সঙ্গে সংযুক্ত করার সুপারিশ, নাগরিকের সুবিধার্থে হোল্ডিং ট্যাক্স সহনীয় মাত্রায় রাখা সহ নানান উন্নয়ন কর্মকা-ের কারণে মেয়র আইভীকে বলা হয়ে থাকে আধুনিক নারায়ণগঞ্জের রূপকার। তার নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় প্রতিটি ওয়ার্ডে বৃক্ষরোপণ, রাস্তায় রাতে বাতি জ্বালানো, জলাবদ্ধতা নিষ্কাশন, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে খেলার মাঠগুলো রক্ষা, প্রতিটি এলাকায় সমপরিমাণ উন্নয়ন তাকে নিয়ে গেছে সফলতার অন্য উচ্চতায়।

আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা আগেই জানিয়েছিলেন মেয়র আইভী। ২৯ নভেম্বর তিনি আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরমও সংগ্রহ করেছেন। দু-একদিনের মধ্যে সেই ফরম পূরণ করে জমা দেবেন বলেও জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা তাকে নৌকার মনোনয়ন দিলে তিনি নির্বাচন করবেন।

স্থানীয় নির্বাচনে দৃশ্যমান উন্নয়ন জনগণের ভোটে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে থাকে। পাশাপাশি নাগরিক সেবা বিরাট ফ্যাক্টর। সিটি কর্পোরেশনের নাগরিক সুবিধার মধ্যে অন্যতম রাস্তা-ঘাট-ড্রেন নির্মাণ, মশক নিধন, স্বাস্থ্যসেবা, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। মেয়র হিসেবে আইভী নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে পেরেছেন সে হিসাবটিও ভোটারদের বিবেচনায় উঠে আসবে বলে মনে করছেন নগরীর বোদ্ধামহল। তারা বলছেন, দলীয় ভোটারের পাশাপাশি নির্বাচনী পরিভাষায় ফ্লোটিং ভোটার বা ‘ভাসমান’ ভোটাররাই সিটি নির্বাচনে আইভীর ট্রাম্প কার্ড। দলীয় ভোটের বাহিরে বরাবরই তারা মেয়র আইভীর পক্ষে থাকেন। উদাহরণ হিসেবে, বিগত দুই সিটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে প্রথমবার লক্ষাধিক ও পরেরবার প্রায় ৮০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়লাভের বিষয়টি সামনে আসে।

নারায়ণগঞ্জসহ সারা বাংলাদেশে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিতি রয়েছে মেয়র আইভীর। আধুনিক নারায়ণগঞ্জ গড়তে ইতোমধ্যে তিনি একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন, আরও কিছু চলমান। আইভী ঘনিষ্ঠদের দাবি চলমান প্রকল্প সমাপ্ত হলে নারায়ণগঞ্জ হবে সারা বাংলাদেশের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল। তাই সিটি কর্পোরেশনের চলমান উন্নয়ন প্রকল্প সমাপ্ত ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় ক্লিন ইমেজের রাজনীতিবিদ মেয়র আইভীকেই আবারও মেয়র পদে দেখতে চায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সাধারণ নগরবাসী।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ