আজ বৃহস্পতিবার, ৬ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২০শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

অস্তিত্ব ও মর্যাদা রক্ষার লড়াই

সংবাদচর্চা রিপোর্ট :

স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলেও বন্দর উপজেলা নির্বাচন এখন আর সাধারণ নয়। ব্যাপক আলোচিত এই নির্বাচনে ভোট নিয়ে ক্রমেই আগ্রহ বেড়েছে সাধারণ মানুষের মাঝে। শুধু যে বন্দরের মানুষের মাঝে এই আগ্রহ সীমাবদ্ধ তা নয়; এর বাইরেও জেলাজুড়ে এই নির্বাচন ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বলা হচ্ছে, এই একটি নির্বাচনের জয় পরাজয়ের হিসেবের উপর এক পক্ষের মর্যাদা এবং অন্য পক্ষের অস্তিত্ব নির্ভর করছে। ৮ মে সকাল ৮ টায় ভোট শুরু হয়ে বিকাল ৪ টায় শেষ ।
সূত্র বলছে, বন্দর উপজেলা নির্বাচন থেকে সরে আসার জন্য একজনকে হুঙ্কার অন্যজনকে অনুরোধ করেছিলেন সাংসদ সেলিম ওসমান। তবে, তার হুঙ্কার ও অনুরোধ গায়ে মাখেননি বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত আতাউর রহমান মুকুল ও মাকসুদ হোসেন। উল্টো তারা দু’জনই এখন এই সাংসদের জন্য পাল্টা হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, সাংসদ সেলিম ওসমানের প্রার্থী হচ্ছেন এম এ রশীদ। শামীম ওসমানও সম্প্রতি সেখানে গিয়ে এম এ রশীদের পক্ষে কথা বলেছেন। এছাড়াও জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও প্রতিদিনই বন্দরে গিয়েছেন এম এ রশীদের পক্ষে। ফলে রশীদের জয় পরাজয়ের উপর নির্ভর করছে সাংসদ সেলিম ওসমান ও সাংসদ শামীম ওসমানের মর্যদা। তিনি যদি এই নির্বাচনে জয়ী হয়ে আসেন তবে ওসমান ভ্রতৃদ্বয়ের মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকবে। বন্দরে তাদের যে ইমেজ ছিল তা নষ্ট হবে না। তবে নির্বাচনী ফলাফল যদি তার পক্ষে না যায় তাহলে তিনি হারবেন না হারবেন ওসমান ভ্রতৃদ্বয়Ñ এমনটাই মনে করা হচ্ছে।
এদিকে আজকের ভোটের ফলাফলে যদি মুকুল কিংবা মাকসুদ জয় ছিনিয়ে আনতে না পারেন তাহলে বন্দরে এই দুজনের অস্তিত্ব বলতে আর কিছুই থাকবে না বলেও মনে করা হচ্ছে। ফলে সবদিক বিবেচনায় আজকের এই নির্বাচনের ভোটের ফলাফল উভয় পক্ষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তারা বলছেন, মাকসুদ কিংবা মুকুল যদি জয়ী হয়ে ফিরেন তাহলে বন্দরের রাজনীতিতে তাদের অবস্থান হবে অন্যন্য। অস্তিত্ব রক্ষা হবে। নয়তো ফলাফল উল্টো হলে বন্দরে তাদের রাজনীতি বলতে অবশিষ্ট আর কিছুই থাকবে না।
জানা গেছে, সাংসদ সেলিম ওসমান জাতীয় পার্টির রাজনীতি করলেও তিনি এবারের বন্দর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সমর্থন দিয়েছেন বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ রশীদ। তিনি উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে দোয়াত কলম প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। তার বিপরীতে চিংড়ি প্রতীক নিয়ে আছেন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত আতাউর রহমান মুকুল এবং আনারস প্রতীক নিয়ে জাতীয় পার্টি নেতা মাকসুদ হোসেন। যিনি বন্দর উপজেলাজুড়ে রাজাকারপুত্র হিসেবে ব্যাপক পরিচিত।
সূত্র বলছে, সাংসদ সেলিম ওসমান যারপরনাই ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন মাকসুদ হোসেনের বিরুদ্ধে। তিনি এতটাই ক্ষুব্ধ ছিলেন যে, মাকসুদ হোসেনকে রাজাকাপুত্র হিসেবে অখ্যায়িত করতেও কুণ্ঠাবোধ করেননি। এই সাংসদ গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মাকসুদকে নৌকা প্রতীক পাইয়ে দিতে মুখ্য ভূমিকা রেখেছিলেন। তার নির্দেশনার বাইরে গিয়ে বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ায় মাকসুদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেও বক্তব্য রেখেছিলেন সেলিম ওসমান। তাকে ঘরের ছেলে হিসেবে উল্লেখ করে নির্বাচন থেকে সরে আসারও আহ্বান করেছিলেন তিনি। তবে তার সেই হুঙ্কার বা হুঁশিয়ারি এবং আহ্বান পোকা ঝারার মতো করে কাঁধ থেকে ঝেরে ফেলে নির্বাচনী মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন মাকসুদ হোসেন। অথচ সেলিম ওসমানেরই অনুসারি ছিলেন মাকসুদ হোসেন। তার ছত্রচ্ছায়াতেই গত পনের বছর মুছাপুর অঞ্চলে ব্যাপক প্রভাবশালী আর প্রতিপত্তির মালিক বনেছেন মাকসুদ হোসেন।
অন্যদিকে একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে আতাউর রহমান মুকুলকেও অনুরোধ জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে আসার আহ্বান করেছিলেন সেলিম ওসমান। কিন্তু তার সেই অনুরোধ আমলে নেননি বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা আতাউর রহমান মুকুল। বরং তিনি সেলিম ওসমানের সেই অনুরোধকে বৃদ্ধাঙুলি দেখিয়ে নির্বাচনী মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, সাংসদ সেলিম ওসমানের ছত্রচ্ছায়াতেই ছিলেন মুকুল ও মাকসুদ। এখন সেই তারাই তাকে পাত্তা দেয়নি। এতে করে সাধারণ মানুষের মাঝে ইমেজ সঙ্কটে পড়তে যাচ্ছেন এই সাংসদ। নির্বাচনে যদি সাংসদের প্রার্থী এম এ রশীদ জয়ী হতে না পারেন তাহলে পুরোপুরিভাবেই ইমেজ হারাবেন সেলিম ওসমান। ফলে নিজের ইমেজ ধরে রাখার জন্য এম এ রশীদকে জয়ী করাটাই এখন এই সাংসদের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যদিও ভোটের মাঠে মুকুল ও মাকসুদ অপেক্ষায় এম এ রশীদের অবস্থান খুব একটা ভালো নয়। কারো কারো মতে, এবারের উপজেলা নির্বাচনে মূল লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে মুকুল ও মাকসুদের মধ্যে। তবে, উপজেলা নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের মতে, সব থেকে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বন্দর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ