আজ বুধবার, ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

‘অনেকে মুক্তিযোদ্ধাদের অবজ্ঞা করে’

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নারায়ণগঞ্জ -১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া একটি মহৎ কাজ। আজকাল অনেকে মুক্তিযোদ্ধাদের একটু অবজ্ঞা করে। কারণ মুক্তিযোদ্ধারা সেভাবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত নয়। আর্থিকভাবে বলিয়ান নয়। সেই কারণে অনেকেই অবজ্ঞা করে। আমরা দেশ স্বাধীন করেছিলাম একাত্তরে। তার সাড়ে তিন বছরের মাথায় আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করা হয়। তারপর স্বাধীনতা বিরোধীরা আবার ক্ষমতায় এসে মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে, হামলা করে নানাভাবে নির্যাতন করেছিলো। আমরা পালিয়ে বেড়িয়েছি। আমরা আমাদের ছেলে মেয়েদের মানুষ করতে পারিনি। সেই কারণে আমরা পিছিয়ে পড়েছি।
বৃহস্পতিবার ( ২৭ জানুয়ারি ) সকালে মর্গ্যান স্কুলে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন , বঙ্গবন্ধুর ডাকে আমরাই দেশ স্বাধীন করেছি, আমরাই পিছিয়ে পড়েছি। বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদেরকে রক্ষা করেছেন। তিনি না আসলে আমাদের কি হতো তা জানতাম না। এখন আমরা সবাই মুক্তিযুদ্ধের সুফল ভোগ করছি। মুক্তিযোদ্ধারা অভাবগ্রস্ত। বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা দিয়েছেন, ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছেন।

মন্ত্রী বলেন , একটি সময় আমরা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নাম প্রকাশ করতে পারতাম না। এখন মুক্তিযোদ্ধা সাটিফিকেটের জন্য আমরা অন্যের দ্বারস্থ হচ্ছি, ঘুরে বেড়াচ্ছি। এক সময় মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট লুকিয়ে রেখে আমরা চাকরিতে দরখাস্ত করতাম, অনেকে করেছে। মুক্তিযোদ্ধা লেখলেই তার চাকরি নেই এমন অবস্থা হয়েছিলো। আজকে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা মুক্তিযোদ্ধারা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছি। আমরা গর্ব করছি। অনেকে ছিলো মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিতে সাহস পেত না। কারণ তখন ক্ষমতায় ছিলো স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি।
তিনি বলেন, আনোয়ার ভাইকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। তিনি নারায়ণগঞ্জের সব মুক্তিযোদ্ধাদের ডেকে সংবর্ধনা দিচ্ছেন। এই কাজের জন্য সত্যি আমি আনন্দিত। বিশেষ করে আমি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে বলবো আমাদের আর বয়স নেই। ইউএনও যারা আছেন আপনে তাদেরকে বলবেন মুক্তিযোদ্ধাদের নামে রাস্তার নামকরণ করতে। আগামী প্রজন্ম যাতে বুঝতে পারে এই দেশে যুদ্ধ হয়েছিলো। তাদের নামে রাস্তা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের নামে রাস্তা হলে স্বাধীনতার ইতিহাস অক্ষুন্ন থাকবে। মেয়র সাহেবকে (আইভী) বলবো আপনেও করবেন। আপনে মুক্তিযোদ্ধাদের নামে রাস্তা করে দিয়েছেন তার জন্য আপনাদে ধন্যবাদ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রূপগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধাদের নামে বাড়ি করে দিয়েছেন। অন্য এলাকায়ও ঘর-বাড়ি হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধাদের। বঙ্গবন্ধু যেভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের জাগ্রত করেছিলেন তার কন্যা শেখ হাসিনাও এখন মুক্তিযোদ্ধাদের জাগ্রত করছেন।
এসময় নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডাঃ সেলিনা হায়াৎ আইভী, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ সহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। পরে অতিথিবৃন্দ চেক ও ক্রেস্ট বিতরণ করেন।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ