টেন্ডার সম্রাট জিকে শামীমকে দ্বিতীয় দিনের মতো জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (৪ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শামীমকে রমনা থানা থেকে সেগুনবাগিচায় দুদক প্রধান কার্যালয়ে আনা হয়েছে।
কীভাবে এত কাজ পেতেন, কারা সহায়তা করেতেন, কাকে কত পার্সেন্ট দিয়ে কাজ বাগিয়ে নিতেন- শামীমকে এমন অসংখ্য প্রশ্ন ছিল দুদক কর্মকর্তাদের। জবাবে শামীম বলেছেন, অনেকেই আমাকে প্রয়োজনে ব্যবহার করেছেন। এখন তারা কেউ আমার পাশে নেই। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
রোববার দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন, উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম ও মো. সালাহউদ্দিন দুপুর ১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত শামীমকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
দুদক কর্মককর্তাদের প্রশ্নের জবাবে জি কে শামীম বলেছেন, রাজনৈতিক কারণে তার সঙ্গে অনেকেরই ভালো যোগাযোগ ছিল। অনেক নেতাই অর্ফিসে নিয়মিত যেতেন। তাদের সহায়তাও নিতেন তিনি। তিনি স্বীকার করেছেন, নেতাদের সহায়তা না পেলে তিনি এতদূর আসতে পারতেন না। অনেকেরই আশীর্বাদ ছিল তার ওপর। ঠিকাদারি কাজ পেতে অনেকেরই সহায়তা পেয়েছেন তিনি।
বিনিময়ে কোনো নেতাকে কত টাকা দিয়েছেন তা তিনি খুলে বলতে চাননি। তবে এটুকু বলেছেন, নেতাদের অনেকেই তাকে তাদের প্রয়োজনে ব্যবহার করেছেন। এখন কেউ পাশে নেই। মধু খাওয়া সেসব নেতাদের তিনি নষ্ট মানুষ বলেও মন্তব্য করেন বলে জানা গেছে।
জি কে শামীম এ-ও বলেছেন, নিয়মের মধ্যে থেকেই কাজ পেয়েছেন। নিয়ম ভেঙে তাকে কাজ দিলে আগেই অনেক সমালোচনা হতো। অবৈধ সম্পদের বিষয়ে জানতে চাইলে জি কে শামীম বলেন, তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ আয়কর নথিতে দেখানো আছে। এর বাইরে যে সম্পদ পাওয়া যাবে সে অভিযোগে মামলা হলে তিনি শাস্তি মাথা পেতে নেবেন।
গত ২১শে অক্টোবর দুদকের সমন্বিত ঢাকা জেলা কার্যালয়-১ এ জিকে শামীমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। শামীমের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. সালাউদ্দিন। তার বিরুদ্ধে ২৯৭ কোটি ৯ লাখ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। ২৭ অক্টোবর শামীমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত।
উল্লেখ্য,সোনারগাঁ উপজেলার সন্মানদী ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত মো. আফসার উদ্দিন মাস্টারের ছেলে শামীম। গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিকেতনের ১১৩ নম্বর বাসা থেকে জিকে শামীমকে আটক করা হয়। এরপর একই এলাকায় অবস্থিত তার মালিকানাধীন জিকে বিল্ডার্সের অফিসে (১৪৪ নম্বর) অভিযান চালিয়ে ১৬৫ কোটি টাকার স্থায়ী আমানতের (এফডিআর) কাগজ ও নগদ ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা জব্দ করে র্যাব।
এছাড়া তার কাছে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র, দেহরক্ষীদের ৭টি শটগান-গুলি এবং বিদেশি মদ জব্দ করা হয়। পরে তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও অর্থ পাচার আইনে তিনটি মামলা হয়।

