আজ বৃহস্পতিবার, ১৪ই ফাল্গুন, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

সোনারগাঁয়ে ভোট যুদ্ধে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা

আল-আমিন মিন্টু
আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীক থাকলেও ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীদের ক্ষেত্রে থাকছে না দলীয় প্রতীক। তাই ভাইস চেয়ারম্যান পদে ভোট যুদ্ধে নেমে পড়েছেন একাধিক প্রার্থী। যে যার মতো চালিয়ে যাচ্ছেন প্রচার-প্রচারণা। বসে নেই নারী প্রার্থীরাও। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আদাজল খেয়ে নেমে পড়েছেন ভোটারদের মন জয় করতে। অনেকেই দিচ্ছেন নানান ধরনের প্রতিশ্রুতি। প্রতীক নিয়ে দলীয় কোন চাপ না থাকায় উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীও একাধিক রয়েছেন এবারের ভোট যুদ্ধে। আসছে ৩১ মার্চকে সামনে রেখে প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। ভোটারদের দিচ্ছেন প্রতিশ্রুতিসহ বিভিন্ন ধরনের উন্নয়ন করার আশ্বাস।

সোনারগাঁ পৌরসভাসহ বৈদ্যের বাজার, বারদী, সোনারগাঁ, জামপুর, সাদিপুর, কাঁচপুর, সনমান্দি, মোগড়াপাড়া, পিরোজপুর, শম্ভুপুরা, আষাড়িয়ার চরসহ ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত সোনারগাঁও উপজেলা। এ উপজেলায় নারী-পুরুষ মোট ভোটার ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৩৭জন। দৈনিক সংবাদচর্চার সরেজমিন প্রতিবেদন করতে গিয়ে উপজেলার বিভিন্ন সাধারন ভোটারদের বক্তব্যে উঠে আসে ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানদের নাম। আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়বেন বলে সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী বাবুল ওমর বাবু, জাতীয় পার্টির সমর্থক নাঈম ইকবাল, বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান শাহ আলম রুপন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হেলেনা বেগম, শ্যামলী বেগমের নাম জানা গেছে। এদের মধ্যে কেউ কেউ সরকার দলের সরাসরি রাজনীতিতে জড়িত আবার কেউ কেউ আওয়ামী মহাজোটের রাজনীতির সাথে জড়িত। যেহেতু দলীয় প্রতীক নিয়ে কেউ নির্বাচন করতে পারছেন না তাই জয় লাভ করতে ভোট যুদ্ধে নামতে হচ্ছে। কাঁচপুর ইউনিয়নের শাহআলম, বাচ্চু, মনির, সাবিনার সাথে কথা হলে তারা বলেন, আমরা ভোট দিব এমন প্রার্থীকে যাকে আমরা সব সময় পাব এলাকায়। আমাদের সমস্যার কথা বলতে ও সমাধান করতে সহযোগিতা করবেন। আনোয়ার আলী নামের একজন বলেন, ভোট আইলেই অনেক নেতাগ মুখস পাল্টে যায়। সাঁপ যেমন ছলম পাল্টায় তেমনি অনেক নেতারা পাশ করার পরে পাল্টে যায়। এমন নেতারা যদি প্রার্থী হয় তাহলে আমরাও বুঝে শুনে ভোট দিব। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী শ্যামলী বেগমের সাথে কথা বলার জন্য যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। শ্যামলী বেগম এর একজন ঘনিষ্ঠজন বলেন, তিনি প্রচার প্রচারণা নিয়ে ব্যস্ত। তার মুঠোফোন নাম্বার চাইলে তিনি বলেন, আপার নাম্বার আমার কাছে থাকলেও দেয়া যাচ্ছে না। তার সাথে মোবাইল নেই।

হেলেনা বেগম প্রচার প্রচারণা কেমন চালাচ্ছেন ও ভোটারদের সাড়া পাচ্ছেন কেমন এ বিষয় নিয়ে কথা হলে তিনি বলেন, বেশ ভাল। তবে আমি আশাবাদী সাধারন ভোটার আমার পাশে থাকবেন। আমার বাড়ির দরজা খোলা থাকবে সাধারন ভোটারসহ উপজেলাবাসীর জন্য। আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়বেন সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী বাবুল ওমর বাবু।

তার আপন বড় ভাই কাঁচপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। প্রশ্ন হলো তার কাছে ভাই চেয়ারম্যান আপনি কেন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন? তিনি বলেন আমি গণমানুষের গণদাবিতে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার ভাই চেয়ারম্যান হয়েছে তাও কাঁচপুর ইউনিয়নবাসীর দাবিতে। আমার পিতা জনপ্রতিনিধি ছিল। বঙ্গবন্ধুর কাছের মানুষ ছিল আমার পিতা সে কথাটা বড় হয়ে জানতে পেরেছিলাম। আমি আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান।

যতদিন বাঁচব আমি মানুষের সেবক হিসেবে পাশে থাকব। বাবুল ওমর বাবুর জনপ্রিয়তা নিয়ে দৈনিক সংবাদচর্চা সরেজমিনে কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানতে পারেন, কাঁচপুর ইউনিয়নে ভোট বেশি। তার পিতা ইউপি চেয়ারম্যান ছিল। বর্তমানে তার ভাই চেয়ারম্যান। সে বিভিন্ন স্কুল, মসজিদ-মাদ্রাসা, এতিমখানাসহ অসহায় মানুষের পাশে রাত কি দিন খোজ খবর নেন। তবে তার আশপাশে দু’চারজন লোক আছে যারা সাধারন মানুষের সাথে খারাপ আচরণ করেন। এমন লোকদের সাথে রাখলে বাবুল ওমর বাবুর জনপ্রিয়তা কমে যাবে। তারা বলেন, এমপি লিয়াকত হোসেন খোকার কাছের মানুষ বাবু। তিনি নির্বাচিত হলে এলাকায় বেশ উন্নয়ন হবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

এছাড়া বাবু উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সাংগঠনিক লোকজন নিয়ে নির্বাচনীয় প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন। জাতীয় পার্টির সমর্থক নাঈম ইকবালের সাথে কথা হলে তিনি দৈনিক সংবাদচর্চাকে বলেন, ব্যপক সাড়া পাচ্ছি। যতটুকু আশা করিনী তার চেয়ে বেশি পেয়েছি। বর্তমান চেয়ারম্যানকে ভোট না দিয়ে আপনাকে কেন ভোট দিবেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যে আশা নিয়ে আমরা বর্তমান চেয়ারম্যানকে নির্বাচিত করেছিলাম তিনি সর্বসাধারণের আশা পুরন করতে পারেননি। আমাকে বলেছিল গত নির্বাচনে সহযোগিতা করার জন্য। আমি করেছিও। এবার আমি সহযোগিতা চেয়েছি সে করেননি। না করে নিজেই নির্বাচনে লড়বেন বলে প্রচারনা চালাচ্ছেন।

বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান শাহ আলম রুপন, বলেন, আমি নির্বাচন করব। আমি আশাকরি আমাকে সাধারণ ভোটার এবারও নির্বাচিত করবেন। আমি যে উন্নয়ন করেছি তা সবাই জানেন। সোনারগাঁও উপজেলাটি দিন দিন বেশ গুরুত্ব পূর্ণ উপজেলায় পরিণত হতে চলেছে। তাই

এ উপজেলায় জনপ্রতিনিধিরাও হতে হবে যোগ্য সম্পন্ন এমনটাই বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে সাধারণ ভোটার এমন নেতাকে ও প্রার্থীকে ভোট দিবেন যারা বিগত দিনে ভাল কাজ করেছেন ও উন্নয়নের সাথে রয়েছেন। এ জন্য যোগ্যতা দেখে ভোট দিবেন এমনটাই বিশ্লেষকরা বলছেন।