আল-আমিন মিন্টু:
নারায়ণগঞ্জ জেলায় রাজনীতির মাঠে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নেতারাসহ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ফের সক্রিয় হয়ে উঠছেন। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারী মহান মাতৃভাষা দিবসকে কেন্দ্র করে জেলা বিএনপি, মহানগর বিএনপি, জেলা ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, যুবদল, জিয়া শিশুকিশোর দল, তাঁতীদলসহ শ্রমিক দলের নেতারা ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নিজ নিজ সংগঠনের ব্যানারে ফুল হাতে প্রথম প্রহরে ও দিনের বেলায় শহরের চাষাড়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ও শহরের বিভিন্ন এলাকায় এবং নিজ নিজ উপজেলায় দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন।
জাতীয়তাবাদী দলের নেতাদের সাথে ঐদিন ফুল নিয়ে এসেছিলে ঐক্যফ্রন্টের নেতা-কর্মীরাও। তবে এ নিয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় জাতীয়তাবাদী দলের ও ঐক্যফ্রন্টের নেতা-কর্মীদের রাজনৈতিক মনোবল চাঙ্গা ভাবতে শুরু করেছেন। শহর এলাকায় অনেকেই বলছেন জাতীয়তাবাদী দলের ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা যদি জাতীয় অনুষ্ঠানগুলোর মতো রাজনৈতিক কার্যক্রম সভা সমাবেশ করার সুযোগ পেত তাহলে এ দলের অবস্থান আরও ভাল হতো। আবার কেউ কেউ বলছেন দলের অনেক সিনিয়র নেতারা আওয়ামী লীগের ও জাতীয় পার্টির নেতাদের সাথে আতাত রেখে চলায় দলীয় কার্যক্রম নিয়ে এগুতে পারছেন না। আবার অনেক নেতারা মামলা হামলায় জর্জরিত হয়ে এখন কোন কর্মসূচিতে আসতে ভয় পান। বহু মামলার আসামী ও কারাবন্দী থেকে মুক্ত হয়ে অনেক নেতারা দলীয় কর্মসূচি পালন করতে ছুটে আসেন রাজ পথে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা শহরের একাধিক এলাকা খানপুর, মাসদাইর, চাষাড়া, মিশনপাড়া, সিমরাইল,সরেজমিন ঘুরে অনেক নেতাকর্রীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির চেয়ারপারর্সন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এড. তৈমুর আলম খন্দকার, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহামুদ, মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি এড. শাখাওয়াত হোসেন, মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক এটিএম কামাল, মহানগর যুবদলের সভাপতি মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, জেলা ছাত্রদল সভাপতি মশিউর রহমান রনি একাধিকবার কারাবন্দী ছিলেন। কেউ কেউ ভোটও দিতে পারেনি কারাবন্দী থাকায়। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য শাখাওয়াত হোসেন, মশিউর রহমান রনি। আলম, খোকন নামের দুইজন ছাত্রদল নেতা বলেন, ছাত্রদলের অবস্থা ভাল হলেও আমাদের বড় মুরব্বীদের মধ্যে মিল না থাকায় অনেক অসুবিধা হচ্ছে রাজনীতিতে টিকে থাকতে। এমন অবস্থায় চলতে থাকলে বিএনপি বলে একটা দল আছে তা বলতেও কষ্ট হবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহামুদের ২১ ফেব্রুয়ারীতে ফুল দিতে এসে কোন প্রকার বাধা ও বর্তমানে রাজনীতির অবস্থা সম্পর্কে জানতে তার মুঠোফোনে ফোন দেয়া হলে তিনি সংবাদচর্চাকে জানান-২১ ফেব্রুয়ারীতে শহীদ বেদীতে ফুল দিতে সকল নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ ছিলো চোখে পরার মতো।তবে তাদের মধ্যে গায়েবী মামলা হামলার ভীতি ছিলো।এক্ষেত্রে জাতীয় প্রোগ্রামের মতো দলীয় কার্যক্রম করার সুযোগ পেলে দল আরো চাঙ্গা হতো।
মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি এড. শাখাওয়াত হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি দৈনিক সংবাদচর্চাকে বলেন, ২০১৮ সালে ২ বার কারাবন্দী হয়ে প্রায় ২ মাস কারাগারে ছিলাম। আমি ভোট দিতে পারিনি। ২১ ফেব্রুয়ারি জাতীয় অনুষ্ঠান বলে পুলিশ নেতা-কর্মীদের কোন রকম হয়রানী করেন নি। তবে মামলা ভয় ছিল। অনেকেই আসতে পারেনি বা আসেন নি মামলা হামলার ভয়ে। তবে আমরা চাই সরকার আমাদের গায়েবী মামলার বিষয়ে ব্যবস্থা নিবেন। প্রশাসনের লোকজন গায়েবী মামলা দিয়ে রাজনীতিকে নির্বাসনে দিয়েছেন। তবে বিরোধী দলের সভা সমাবেশ করার সুযোগ দিলে গনতন্ত্রের অধিকার রক্ষা হতো।
মহানগর যুবদলের সভাপতি মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ এর সাথে কথা হলে দৈনিক সংবাদচর্চাকে তিনি বলেন, আমি ১১তম সংসদ নির্বাচনের আগে ৯টা মামলার আসামী হয়েছি। খালেদা জিয়ার রায়ের প্রতিবাদে মিছিল বের করেছিলাম বলে গ্রেফতার হয়েছি। ২০১৫ সালে ৩ মাস ২০১৮ সালে ৪ মাস ও বিভিন্নসময় ৫ বার কারাবন্দী হয়ে আরও দেড় মাসের মতো হাজত খানায় ছিলাম। এবছর ২১ ফেব্রুয়ারী প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে ফুল দিয়েছি। সেদিন ফুল দিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে মিছিলও করেছি।
২১ ফেব্রুয়ারী উপলক্ষে ফুল দিতে আসেন নি ও রাজনীতির বিষয়ে ছাত্রদলের অবস্থান কেমন আছে বর্তমানে জানতে চেয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনির মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, প্রথমে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরনকরি সকল ভাষা শহীদের। আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার মতো ভাষা নেই নারায়ণগঞ্জ জেলায় কর্মরত ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক ভাইদের। আমি যখনি রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে ছিলাম সত্য প্রকাশে আপোষহীন ছিল সাংবাদিকরা। আমি ২৯দিন ৩৯ দিন পরে ১৪১ দিন কারাবন্দী ছিলাম রাজনীতির মামলাসহ একাধিক মামলায়। ছাত্রদল সুসংগঠিত বর্তমানে। আপনি শহীদ মিনারে ফুল দিতে আসেনি? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার পক্ষ থেকে কয়েক,শ নেতা-কর্মী ফুল দিয়েছে। কেঁদেছি একা একা বসে। ইচ্ছা থাকার পরেও যেতে পারিনি। এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে চাই না।
তৃণমুল নেতাদের সাথে কথা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক সংবাদচর্চাকে বলেন, বিএনপি নারায়ণগঞ্জ জেলায় এখনো শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। দলের হাজার হাজার নেতা-কর্মীরা মামলা হামলায় জর্জরিত বলে তারা রাজ পথে নামতে পারছেন না। তারা দাবি করেন, গত ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে ফুল দিতে নেতা-কর্মীদের যে ঢল নেমে ছিল তা দলকে বর্তমানে অনেকটা চাঙ্গা করেছে। রূপগঞ্জ থানা বিএনপি মহিলা দলের সভাপতি হাওয়া বেগমের সাথে বর্তমান রাজনীতির অবস্থা ও দলের কার্যক্রম জানতে তার মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, দলের অবস্থা আর কি? । তবে ২১ তারিখে নারায়ণগঞ্জে ফুল দিতে গিয়ে মনটা ভরে গেছে। আমরা যদি দলীয় কার্যক্রম করার সুযোগ পাইতাম তাহলে দল আরও চাঙ্গা হতো।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জাতীয় প্রোগ্রামের পাশাপাশি যদি দলীয় কর্মসূচিতেও তারা একই সুযোগ সুবিধা পায় তাহলে অতি শীঘ্রই জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলো ফের চাঙ্গা হয়ে উঠবে।