আল-আমিন মিন্টু
আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিতে চেয়ারম্যান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীর ছড়াছড়ি বন্দর উপজেলা জুড়ে। এবছর প্রথমবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচন দলীয় প্রতীকে অংশ নিবেন চেয়ারম্যান প্রার্থীরা।
আর মহিলা ও পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যানরা দলীয় প্রতীক পাচ্ছেন না। তাই চেয়ারম্যান পদে দল থেকে একজন থাকার সুযোগ পাচ্ছেন। অপরদিকে ভাইস চেয়ারম্যানরা উন্মুক্ত থাকায় দলের ভিতর ও বাহির থেকে একাধিক প্রার্থীর প্রতিদন্দিতা করার সুযোগ পাচ্ছেন।
বন্দর উপজেলায় এবারের নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীর ছড়াছড়ি লক্ষনিয়। তফসিল ঘোষণার পর চেয়ারম্যান প্রার্থীরা একটু ভাবনায় পড়লেও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা ভাবনার উর্ধে তারা চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের প্রচার-প্রচারনা। বন্দর উপজেলার প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা পোষ্টার, ফেস্টুন, ব্যানার, বিলবোর্ড টাঙীয়ে জানন দিয়েছেন নির্বাচনের মাঠে থাকার বিষয়ে। এসব পোষ্টার, ফেস্টুন, ব্যানার, বিলবোর্ড থেকে ও স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক পেতে মরিয়া হয়ে জোড় লবিং চালাচ্ছেন বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ রশীদ, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহাম্মদ দুলাল প্রধান, কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান, মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ সালাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আবু সুফিয়ান।
এছাড়া বর্তমান চেয়ারম্যান ও বন্দর থানা বিএনপির সভাপতি আতাউর রহমান মুকুলের নাম উঠে আসে। যদিও বিএনপি দলীয় প্রার্থী দিবেন না বলেই শোনা যাচ্ছে। তার পরও মুকুল চেয়ারম্যান পদে লড়বেন এমটা বলছেন বন্দরের অনেকেই। বন্দর উপজেলার একাধিকস্থানে বিভিন্ন লোকজনের সাথে কথা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ভোটার। তিনি তার ভোটার আইডিকার্ড স্থানান্তর করার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন। এই নেতার অনেক ক্ষমতা। ভোটার আইডিকার্ড পরিবর্তন করতে পারবেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশ এর ভোটার ছিলেন। তার এ ভোটার স্তানান্তর করা হয়েছে কি না জানতে দৈনিক সংবাদচর্চার অফিসিয়াল নাম্বার থেকে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ও রে বোকা! আমার ভোটার পরিবর্তন না করলে আমি কি দলীয় মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছি? আমার ভোট নাম্বার ১০৭০। এমন কথা বলে তিনি ফোন রেখে দেন।
সিটি কর্পোরেশনের ভোটার এখন তার ভোট পরিবর্তন করতে পারবেন কি না এমন বিষয়ে জানতে ০১৭১২৬২৬৫৩৪ এ নাম্বারে ফোন দিলে প্রথমবার তিনি বলেন, যে সকল উপজেলাগুলো সিডিউইল করা হয়েগেছে তারা পারবেন না। সদর ও বন্দর বাকি রয়েছে বলে তিনি ফোন রেখে দেন। দ্বিতীয়বার ফোন দেয়া হলে তিনি বলেন, আমি একটু দেখে পরে বলব। এমন কথা বলে ফোন রেখে দেন। তার কাছে পুরো তথ্য না পাওয়ায় পরে ফোন দিলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তাই এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার সাথে পুরো তথ্য নিয়ে কথা বলা যায়নী।
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট মাহমুদা আক্তার, বন্দর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সালিমা হোসেন শান্ত, মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক নুরুন্নাহার সন্ধা ও খন্দকার শামীমা আক্তার মুন্নী প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন।
পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সানাউল্লা সানু, বন্দর থানা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসআই জুয়েল, মহানগর আওয়ামী লীগের যুবও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ূন কবির মৃধা, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এ্যাডভোকেট ইসহাক, কলাগাছিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আক্তার হোসেন, মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম কমান্ড বন্দর থানা শাখার সভাপতি জুলহাস সরকার, ধামগড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা রোমান হোসাইন প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। একটি উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে এত প্রার্থীর ছড়াছড়ি এমন বিষয় নিয়ে বন্দর এলাকার কয়েকজন ভোটারের সাথে কথা হলে তারা দৈনিক সংবাদচর্চাকে বলেন, নির্বাচন এলেই কত জনদরদীদের দেখা যায়। বিপদে পড়ে তাদের কাছে গেলে অনেকেই দরজা খোলেন না। অনেকে ফোন উঠান না। আবার অনেকে তাদের বডিগার্ড দিয়ে ঠেলে সরিয়ে দেন।
আমরা এমন একজনকে ভোট দিব যাকে সব সময় পাশে পাব তাকে। বর্তমানে আওয়ামী লীগের নেতাদের কাছে পাওয়া দুরের কথা তাদের সাথে ফোনে যোগাযোগ করাও দায় হয়ে যায়। জনপ্রতিনিধি হওয়ার পরে তাদের মনমানোষিকতা আগের মতো থাকে না। বাড়িতে ও অফিসে গেলে সিরিয়াল ধরতে হয় ঘন্টার পর ঘন্টা। তবে এবার বুঝে শোনে ভোট দিব। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সভা সমাবেশে সালিমা রাহমান শান্তা যোগদান করেন এমটা বলছেন দৈনিক সংবাদচর্চা প্রতিবেদককে বন্দর এলাকার সাহিদা, মনি বেগম, কানিস আকতা। অনেকেই বলছেন, মহিলা নেত্রী হিসেবে আমরা এমন একজনকে ভোট দিব যাকে পাশে পাব।
বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল দৈনিক সংবাদচর্চারকে বলেন, জুনে নির্বাচন। দেরী আছে। প্রচারণা চালাচ্চেন? তিনি বলেন, আমাকে সবাই ভাল করে চিনেন। দল নির্বাচনে না আসলেও আমি নির্বাচন করব। তবে সতস্ত্র প্রার্থী হিসেবে। প্রশ্ন ছিল প্রচার প্রচারণায় নামতে না দেখার কারন কি ? তিনি বলেন, চিনা ভ্রামনের পইত্তা লাগে না। যারা নতুন নির্বাচন করার জন্য আসতে চাইতাছে তারা পরিচিতি লাভ করুক। আমি সবার কাছে পরিচিত। ভাইস চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম দুলালের সাথে কথা বলার জন্য তার মুঠোফোনে ফোন দেয়া হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
বন্দর উপজেলায় দলীয় প্রার্থী হিসেবে কে নৌকা পাচ্ছেন জানতে চেয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাইয়ের সাথে কথা বলার জন্য দৈনিক সংবাদচর্চার অফিসিয়াল নাম্বারের ফোন দেয়া হলে তিনি বলেন, আমরা তিন জনের নাম পাঠিয়েছি। কাকে দিবেন এমটা বলতে পারি না। কবে নাগাত এ সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে আপনি মনে করছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগামী মার্চ মাসের ১ বা ২ তালিখে কেন্দ্র থেকে সিদ্ধান্ত আসবে বলে ধারনা করছি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসলে অনেকেই ঝড়ে যাবেন। আবার অনেকেই টিকে যাবেন। তবে দলের ক্ষমতা ব্যবহার করে কেউ যদি অযোগ্য প্রার্থীকে বাছাই করেন তাহলে এলাকার সাধারন মানুষ এর ভোগান্তিতে পরবেন ৫ বছরের জন্য। তাই দলের ও দলের বাহিরে যারা নির্বাচন করবেন তাদেরকে ভোট দেয়া আগে ভোটারদেরকেই ভাবতে হবে। বন্দরে যেভাবে প্রার্থীর ছড়াছড়ি তাতে বুঝার উপায় নেই কে কতটা ভাল। যারা একি দলের কর্মী বা নেতা তাদের থেকে ভাল যোগ্য শিক্ষিত এওকজনকে বাছাই করে সমর্থন দিলে ভাল হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।