সংবাদচর্চা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জের পরিবহণ ব্যবস্থা কি বান্ধব? জনবান্ধব নাকি শিল্প বান্ধব? যে হারে ভাড়া বৃদ্ধি, যত্রতত্র যানবাহন থামিয়ে যাত্রি উঠানামা এবং বিভিন্ন যানজটের কবলে পড়ে প্রতিনিয়ত যে সময় নষ্ট হচ্ছে তা থেকে রেহাই পেতে নারায়নগঞ্জ সহ এর আশেপাশের এলাকার যাত্রী সাধারণরা সময় আর অর্থ অপচয় রোধে ট্রেন ব্যবস্থাকেই বেছে নিয়েছে। ট্রেনে যাতায়াতের ফলে যেমন অর্থ বাঁচে তেমনি যথাযথ সময়ে যথা গন্তব্যে পৌছানো যায়।
বর্তমানে নগরবাসীর রেল পথে যাতায়াতে কিছুটা ব্যয় ঘটছে। এই ব্যয় ঘটার পিছনেও রয়েছে যুক্তি ও অযুক্তি কিছু কারণ। যার মধ্যে অন্যতম রেল পথে বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত। নারায়ণগঞ্জ সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নারায়ণগঞ্জের প্রাণ কেন্দ্র তথা চাষাড়া ও এর আশপাশে গড়ে উঠেছে। নারায়ণগঞ্জ নগরীর বাহিরের এলাকাগুলো যেমন ফতুল্লা, পঞ্চবটি, ভূইঘর, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা সহ এর আশপাশ এলাকার ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য যাতায়াতের সুব্যবস্থা ও সহজ উপায় না থাকায় অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সড়ক পথের চেয়ে রেল পথকেই যাতায়াতের জন্য সহজ মনে করে। যার ন্যায় শিক্ষার্থীরা ট্রেনে যাতায়াতে করে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যাচ্ছে।
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেলপথে ট্রেনের ছাঁদে ও ইঞ্জিনে যাত্রীবেশে ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের দেখা যায়।
ট্রেনে চলাচলরত যাত্রীরা বলছেন, প্রতিদিন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ট্রেনে চড়ে মৃত্যুর ঝুকি নিয়ে চলাচল করে থাকে। শিক্ষার্থীরা স্কুলে না গিয়ে ট্রেনের ছাঁদে চড়ে জীবনের ঝুকি নিচ্ছে প্রতিনিয়ত। অভিভাবকদের অভিযোগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো করছে কি? শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবহেলার কারনে মৃত্যু পথে শিক্ষার্থীরা।
অভিভাবকদের অনেকে মত প্রকাশ করে বলেন, আমার সন্তান আমি জন্ম দিয়েছি, আমাদের স্বপ্ন আমার সন্তান যেমন মানুষের মত মানুষ হবে, ঠিক তেমনি সকল কাজের সঠিক নিয়মাবলী মেনে চলবে এবং এর প্রয়োগ করবে সর্বক্ষেত্রে আর শেষের ক্লাশ যে শিক্ষক নেয় তাঁর উচিত যাতায়াত এর বিষয়ে প্রতিদিন এর কুফলগুলো অবগত করা ।
পাগলা এলাকার এক শিক্ষার্থীর অভিবাবক দাবি করে বলেন, আমরা সব সময় শিক্ষকদের সৃষ্টিকর্তার রহমত মনে করি। শিক্ষা যদি জাতীর মেরুদন্ড হয়, তবে শিক্ষকরা হলেন সে বটবৃক্ষ যেখান থেকে শিক্ষাঙ্গন শিকড়ের সন্ধান করবে। আমি অবাক হলাম ছাত্রদের এই দৃশ্য দেখে কিভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওরা ট্রেনের ছাঁদে বহন করছে। ছাঁদে উঠার দৃশ্যটি লক্ষ করে দেখি কতগুলো শিক্ষার্থী তাঁদের এক সহপাঠির মাথায় পানি দিচ্ছে বোতল দিয়ে। পরে জানতে পারি ছাদে উঠতে গিয়ে মাথায় আঘাত পায় স্কুল ফাকি দিয়ে আসা এই শিক্ষার্থী। শিক্ষকগণ ছাত্রদের সঠিক শিক্ষা না দেয় এর থেকে কিভাবে আগামীর ভবিষ্যৎ রক্ষা পাবে? আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো শিক্ষার্থীদের নজরদারিতে আনা দরকার। এছাড়া চলন্ত ট্রেনের ছাঁদে ও ইঞ্জিনে ভাড়া আদায় করা ঝুঁকিপূর্ণ। ট্রেনের চালক ও স্টাফরা ভাড়ার নামে টাকা আদায় করে থাকেন বলে তিনি জানান।
প্রতিদিন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ উভয় দিক থেকে সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা এছাড়া শ্রেণী-পেশার মানুষ ট্রেনে ঢাকায় যাতায়াত করেন। রেলপথে প্রতিদিন ট্রেনের ছাঁদে ও ইঞ্জিনে ঝুঁকি নিয়ে শত শত শিক্ষার্থী যাত্রী চলাচল করে আসছে।
রেলওয়ের নারায়ণগঞ্জ স্টেশন, চাষাড়া, ফতুল্লা ও পাগলা স্টেশন থেকে যাত্রীরা অবাধে ট্রেনের ছাঁদে ও ইঞ্জিনে উঠলেও এই বিষয় আমলে না নেয়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলছে।
তবে নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে ষ্টেশন মাষ্টার সর্বদা জিআরপি পুলিশের কাঁেধ দায়িত্বের কথা বলে নিজে দায়িত্ববান পরিচয় দেন।
কিন্ত জিআরপি পুলিশকে নারায়ণগঞ্জ রেল স্টেশন ছাড়া অন্য কোথাও দেখা যায়না অথবা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতেও দেখা যায় না।