নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজনীতি কী? একটি দেশের অভ্যন্তরীণ পরিমন্ডলে দেশের সামগ্রীক জনগনের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ণের সহিত জড়িত তথা রাজনৈতিক ব্যবস্থা হচ্ছে সমাজের বৈধ শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বা পরিবর্তন আনায়ন কারী ব্যবস্থা। মূলত এ লক্ষেই গঠিত হয় রাজনৈতিক দল। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কার্যকলাপের উপর ভিত্তি করে যেকোন রাজনৈতিক দল গড়ে উঠে।
কিন্তু নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি নিয়ে জেলার রাজনৈতিক বোদ্ধাদের নানা অভিযোগ। তাদের মতে, মানুষকে নিয়ে যে রাজনীতি সেটা এখন বিলুপ্তির পথে। তথা নারায়ণগঞ্জে মানুষকে নিয়ে যে রাজনীতি তা এখন প্রায় হারিয়ে যাচ্ছে।
আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দেশের সবচেয়ে বড় দু’টি দল হলেও নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতারা একে ওপরের দোষ খুজতেই ব্যস্ত। দীর্ঘ প্রায় এক যুগ ক্ষমতায় থাকার কারণেই তাঁদের এই অবস্থা বলে মনে করেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা।
তাঁদের মতে, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিপুল ভোটে জয়লাভ করার পর সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। সেই থেকে এখন পর্যন্ত টানা ক্ষমতায় তারা তথা তাঁদের নেতাকর্মীরা। নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের রাজনীতি দুই ভাগে বিভক্ত। একটি ভাগ মেয়র পন্থী অন্যটি সাংসদ পন্থী। যার ফলে মানুষের জন্য ভাবার তাদের সময় নেই বললেই চলে। দুই মেরুর জনপ্রতিনিধিরা মানুষের জন্য কাজ করলেও তাদের সবচেয়ে বেশী সময় কাটে একে ওপরের দোষ খুজতেই। যার ফলে মানুষের সম্পূর্ণ চাহিদা মেটাতে অনেকটাই ব্যর্থ তারা।
রাজনৈতিক বোদ্ধারা মনে করেন, যদি এই প্রতিপক্ষের রাজনীতি না থাকতো তাহলে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নারায়ণগঞ্জে জনপ্রতিনিধিরা মানুষের জন্য আরও বেশী কাজ করতে পারতো। এখনো অনেক কাজ বাকী রয়ে গেছে জেলায়। তাদের ব্যাক্তিগত কোন্দলের কারণেই এসকল কাজগুলো করতে তাঁরা বিলম্ব করে। তাঁদের ব্যাক্তিগত কোন্দলের কারণেই জেলার মানুষ তাঁদের পূর্ণ অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। সকল ভেদাভেদ ভুলে তাঁরা একত্রিত হতে পারলে নারায়ণগঞ্জে উন্নয়ণের সুবাতাস বইতো এবং নারয়ণগঞ্জের মানুষের ভাগ্যের চাকা ঘুরে যেতো।
জেলার মানুষের কথা চিন্তা করে তাদের ব্যক্তিগত কোন্দল অচীরেই মিটিয়ে ফেলা উচিৎ। পাশাপাশি জেলার মানুষের পক্ষে থেকে তাঁদের সমস্যা গুলো খুজে বের করে এর সমধান করা উচিৎ। আর তাহলেই জেলা এবং জেলার মানুষের ভাগ্যে খুলে যাবে।
অন্যদিকে নারায়নগঞ্জ বিএনপি নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকার কারণেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি দেউলিয়া হয়ে গেছে। সেই সাথে রাজপথ থেকে হারিয়ে গেছে তাঁদের নেতাকর্মীরা। সেই ২০০৮ সাল থেকে আন্দোলন, সংগ্রাম করতে থাকলেও এখন পর্যন্ত কোন লাভ হয়নি তাঁদের বরং কমেছে দলের সাংগঠনিক শক্তি। নারায়নগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীদেরও দলীয় কোন্দলের শেষ নেই। মানুষের অধিকার আদায় কিংবা মানুষের জন্য ভাবার সময় কই তাঁদের? তাঁদের নিজেদের কোন্দল নিয়েই তারা ব্যাস্ত। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়া না পাওয়াকে ঘিরেই তাঁদের মুখ ভারী। কেন্দ্র থেকে যাদের মনোনয়ন দেয়া হয়েছিলো তাদের পক্ষে বিএনপির অন্য কোন নেতাকর্মীদেকে মাঠে দেখা যায়নি।
তাঁরা মনে করেন, ঐক্যবদ্ধ থাকলে অবশ্যই তাঁরা ফলাফল পেতো। তাঁদের ঐক্যহীনতার কারণেই তাদের দলের আজ এই করুণ দশা। নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীদের রাজপথে দেখা যয়না কিংবা আন্দোলন সংগ্রাম করতে দেখা যায়না। যার ফলে তাঁদের অধিকার আদায় করাও সম্ভব হয়না। নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতি বর্তমানে স্বার্থের জন্য। তারা নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে পারলেই বেচেঁ যায়।