৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, রাত ১০:০১

৩৪ বছর পর বিদ্যুৎ পেল মধ্যচরবাসি

রাকিবুল ইসলাম:

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা আলীরটেক ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার মধ্যচরবাসি ৩৪ বছর পর বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়েছে। এতে খুশীর বন্যা বইছে মানুষের মাঝে।

শহর থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দুরেই অবস্থিত এই এলাকাটি। শহরের পাশেই গ্রামটির অবস্থান হলেও বিদ্যুৎ না থাকায় এত বছর যাবত বিভিন্ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন তারা। যা এখন পাচ্ছে। এই এলাকার মানুষের বিদ্যুৎহীন ভাবে কষ্টে দিন কাটালেও ৬ মাস যাবৎ তা আর নেই। আলীরটেক ইউনিয়নের মধ্যচর গ্রামটি চতুর্থ দিকে নদী ধারা বেষ্টিত। পশ্চিম আর দক্ষিনে ধলেশ্বরী নদী এবং পূর্বে শীতলক্ষা নদীর শাখা অবস্থিত। গাছে ভরা সবুজ শ্যামল পুরো গ্রাটি ২ নদীর মধবর্তী স্থানে একটা দীপের মত।  এখানে গেলে যে কার মন কেরে নিবে ওই এলাকার প্রকৃতি।

সংবাচর্চচার প্রতিবেদকের সাথে কথা হলে মধ্যচর গ্রামের বাসিন্দা মজবিুর রহমান বলেন, আমার বয়স ৭২ বছর। দেশ স্বাধীনের আগে এই মধ্যচর গ্রাটি ছিল নদী। স্বাধীনতার পর এখানে চর ভেসে উঠে। আশির দশকের পরে এই এলাকায় মানুষের বসবাস শুরু হয়। যা পর্যায় ক্রমে গ্রামে পরিনত হয়। বর্তমানে এখানে ২শ’ ঘরে  প্রায় সাড়ে ৪শ’ মানুষের বসবাস।

তিনি আরো বলেন, ৬ মাস আগেও আমাদের এই এলকা ছিল বিদ্যুৎহীন। তখন বিদ্যুৎ না থাকায় যাদের সামর্থ ছিল তারা ঘরের চালে সৌরবিদ্যুৎ লাগিয়ে কোন রকম রাত পার করত। বিদ্যুৎ আনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহরের পাশে অবস্থান হওয়া সত্ত্বেও বিদ্যুৎ ছাড়া এত বছর যাবত বসবাস করেছি আমরা। তাই কস্ট সইতে না পেরে মধ্যচরবাসি সকলে মিলে বিদ্যুৎ আনার জন্য টাকা তুলি।  এখানে প্রত্যেকের সামর্থ অনুযায়ী টাকা দেয়, কেউ ১০ হাজার , ৫ হাজার আবার কেউ কেউ ২ হাজার টাকা দেয়। পরে এক লোকের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ পঞ্চবটি বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে আমাদের এলাকায় বিদ্যুতের জন্য ১৮ মাস আগে আবেদন করি। আর এ জন্য তাদেরকে ৪ লাখ টাকা দিতে হয়। পরে তারা এসে বিদ্যুতের খাম্বা বসায় দিয়ে যায়।

একই এলাকার মাসুদ বলেন, অনেক কষ্টের পর বিদ্যুৎ পেলাম। বিদ্যুৎ আসার ফলে আমাদের সন্তানেরা আগের থেকে এখন পড়া লেখার প্রতি মনোযোগ হইছে। একই সাথে এখানে ছোট খাটো হোসিয়ারি গড়ে উঠেছে। দোকান পাটও বেরেছে। বিদ্যুৎ পেয়ে আমরাও এখন আগের থেকে ভালো আছি।  তবে বিদ্যুৎ আনার পিছনে চেয়ার ম্যা মেম্বারদের কোন অবদান পাই নাই।

মধ্যচরবাসি কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী ইসমাইল বলে, আমরা অনেক বছর পর অন্ধকার থেকে প্রদিপ পাইছি। এই আলো পাওয়ার ফলে এখন আর আমাদেরকে কপি জালিয়ে পড়া লেখা করতে হবে না। আলোর মাঝে পড়তে পারি। বিদ্যুৎ পাওয়ার ফলে আমাদের এলাকার শিক্ষার হার বারবে বলে আমি  বিশ্বাস করি।  

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ