আজ শুক্রবার, ১৫ই ফাল্গুন, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

শামীম ওসমানের ফেসও নাই বুকও নাই!

নিজস্ব প্রতিবেদক:
আমার ফেসও নাই বুকও নাই, আমার জীবনেও ফেসবুক দেখি নাই আমার নামে বলে ফেসবুক আছে! হাই ভাই মনে হয় দেখেন নাই? ভাইরাল কাকে বলে সেটাও আমি জানি না। গত ২ মার্চের জনসভায় নারায়ণগঞ্জের ৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান এসব কথা বলেন।

তবে শামীম ওসমানের উক্ত বক্তব্যের প্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহাবুবুর রহমান মাসুম দৈনিক সংবাদচর্চাকে জানান, সংসদ সদস্য শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জবাসিকে অনেক বোকা মনে করেন! তার ফেসও নাই বুকও নাই, তিনি শামীম ওসমান মিথ্যা বলেন এটা নতুন কিছু নয়। তাঁর রাজনীতি শুরু হয়েছে মিথ্যা দিয়ে, মিথ্যাতো বলবেই।
অপরদিকে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা’ র্শীষক র্কমশালায় কারা অংশগ্রহণ করে ছিলেন? কাদের নিয়ে কর্মশালা পরিচালনা করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গবেষণা উইং সিআরআই? যেখানে বর্তমান সরকার বলছে তথ্য প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ কিন্তু নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলছেন, তিনি চিনেন না সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক।

২০১৭ সালে ১৫ এপ্রিল বিবিসি বাংলায় প্রকাশ হয় ফেইসবুক ব্যবহারে সারা পৃথিবীতে দু’নম্বরে ঢাকা। সবচেয়ে বেশি সংখ্যক সক্রিয় ফেইসবুক ব্যবহারকারী আছেন ব্যাংকক শহরে, যার পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি। এর পরই রয়েছে ঢাকা। এখানে সক্রিয় ফেইসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২২ মিলিয়ন বা ২ কোটি ২০ লাখ। জনমনে প্রশ্ন এখন তাহলে সংসদ সদস্যরা থাকেন কোথায় ঢাকার বাহিরে?

জানা যায়, বিগত ২০১৭ সালের ৯ মে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে বাংলাদেশ সরকারের সংসদ সদস্যদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক, টুইটার, ইউটিউবসহ জনপ্রিয় যোগাযোগ মাধ্যম গুলো কিভাবে ব্যবহার হয়। সেখানে প্রযুক্তির ব্যবহার কিভাবে করা যায় সেই সংক্রান্তে কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিল। ঢাকার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা’ র্শীষক র্কমশালা করা হয়েছিল। বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা যায়, প্রথম ধাপে কর্মশালায় ১৩৭ জন সংসদ সদস্য অংশ নেন। এবং আরো ১০০জন সংসদ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে বলে জানা যায়। এছাড়া সংসদ সদস্যদের পর আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাদের এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করবে সিআরআই। ৭ মে কর্মশালার উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

এসময় অতিথি হিসেবে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। কর্মশালা পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের গবেষণা উইং সিআরআইয়ের অ্যাসিসটেন্ট কো-অর্ডিনেটর তন্ময় আহমেদ ও সিনিয়র এনালিস্ট ব্যারিস্টার শাহ আলী ফরহাদ। প্রশিক্ষণ কর্মশালার প্রথম দিন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছিলেন, প্রতিদিন ফেইসবুকে একটা করে পোস্ট আপনারা দিতে পারেন। আপনাদের ফেসবুক পেজ বা অ্যাকাউন্ট ভেরিফাইড করার বিষয়ে আমরা সহযোগিতা করবো।

এছাড়া কর্মশালায় সহকারী সমন্বয়ক প্রকৌশলী তন্ময় আহমেদ বলেছিলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাদের সংসদ সদস্যরা কীভাবে তাঁদের কাজগুলো প্রচার করতে পারেন এই কর্মশালায় তা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। কর্মশালায় সংসদ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় কীভাবে ফেসবুক, টুইটার, গুগল ইউটিউব ইত্যাদি ব্যবহার করে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করে অ্যাকাউন্ট খোলা যায়, কনটেন্ট তৈরি করে দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কীভাবে জনগণের সঙ্গে কার্যকরী দ্বিমুখী যোগাযোগ গড়ে তোলা যায়। এছাড়া অনলাইনে কীভাবে উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায়, অ্যাকাউন্ট ভেরিফায়েড করা যায়, অনলাইনে নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ অন্যান্য বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সেই কর্মশালার বিষয়টি নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান ভুলে গেছেন? তবে নারায়ণগঞ্জের মানুষ কিন্তু ভুলে নাই।