২৩শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৬ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার, দুপুর ১২:৪৮

রিসোর্টে ধরা পরলো সেটা ঢাকার জন্য নানা রকমের চেষ্টা: প্রধানমন্ত্রী

সংবাদচর্চা রিপোর্ট:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন , ‘গতকালকে ( ৩ এপ্রিল) আপনারা দেখেছেন, এরা একদিকে ইসলামের নাম, ধর্মের নাম, পবিত্রতার নাম- এতকিছু বলে অপবিত্র কাজ করে ধরা পড়ে সোনারগাঁওয়ে একটা রিসোর্টে।’ (সংসদজুড়ে হাততালি)। একটা রিসোর্টে ধরা পড়ে হেফাজতের জয়েন্ট সেক্রটারি মামুনুল হক , সে ধরা পড়ল। এবং সেটা ঢাকার জন্য নানা রকমের চেষ্টা। পার্লারে কাজ করে এক মহিলা। একদিকে বউ বলে পরিচয় দেয়, আবার নিজের বউয়ের কাছে বলে, অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে পড়ে আমি এটা বলে ফেলেছি।’ (সংসদ সদস্যরা এ সময় বলতে থাকেন- শেইম, শেইম)।
যারা ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করে তারা কি এরকম মিথ্যা কথা বলতে পারেন, এরকম অসত্য কথা কি তারা বলতে পারেন- এমন প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারা তো বলতে পারেন না। তাহলে এ কী ধর্ম পালন করে, মানুষকে কী শেখাবে? যারা হেফাজতের সদস্য, তাদেরকেও আমি অনুরোধ করি, তারাও একটু বুঝে দেখুক, কোন নেতৃত্ব তাদের? আগুন-জ্বালাও-পোড়াও করে তিনি বিনোদন করতে গেলেন একটা রিসোর্টে আরেকজন সুন্দরী মহিলা নিয়ে। এই তো বাস্তবতা। এটাই তো বাস্তবতা। অর্থাৎ এরা ইসলাম ধর্মের নামের কলঙ্ক। এবং ইসলাম ধর্মকে তারা ছোট করে দিচ্ছে।’ এরা বিনোদনের অর্থ কোথায় পায়?
শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘কিছু লোকের জন্য আজকে এই ধর্মটা, জঙ্গির নাম, সন্ত্রাসের নাম- আর এখন তো যে চরিত্র দেখাল, দুশ্চরিত্রের নাম, সব নাম জুড়ে দিচ্ছে। তার মানে, আমার পবিত্র ধর্ম, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ধর্ম হচ্ছে ইসলাম। শান্তির কথা বলেছে। সাধারণ মানুষের কথা বলেছে, মানুষের উন্নয়নের কথা বলেছে। পবিত্র ধর্মকে এরা কলুষিত করে দিচ্ছে। এরা ধর্মের নামে ব্যবসা শুরু করেছে। এবং এতো অর্থ কোথা থেকে আসে এই বিনোদনের সেটাও একটা প্রশ্ন। কাজেই এটা দেশবাসী বিচার করবে। আর আইন তার আপন গতিতে চলবে।’
একজন মুসলমানের আরেকজন মুসলমানের জানমাল হেফাজত করা, রক্ষা করা হচ্ছে দায়িত্ব- এমনটা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হেফাজতের নামে তারা জ্বালাও-পোড়াও করে যাচ্ছে। আর বিএনপি-জামায়াত তাদের মদদদাতা। এটা শুধু বাংলাদেশের মানুষের জন্য নয়, সমগ্র বিশ্বের জন্য লজ্জার। সমস্ত পৃথিবীর জন্য লজ্জার বিষয় এনে দিচ্ছে তারা। এটাই হচ্ছে আমাদের দুঃখ। আমাদের পবিত্র ধর্মটাকে তারা সম্পূর্ণভাবে নষ্ট করে দিচ্ছে। তাদের এই ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে বহু মানুষের জীবন গেছে। ২৬ মার্চ অনেক মানুষের জীবন গেছে। এজন্য দায়ী তো তারা।গতকাল রোববার দুপুরে একাদশ সংসদের দ্বাদশ অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল সংসদে সাম্প্রতিক সময়ে দেশব্যাপী হেফাজতে ইসলামের কর্মকাণ্ড নিয়ে তুমুল সমালোচনা করেছেন। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, পবিত্র ইসলাম ধর্মের নামে সংগঠনটি ‘অপবিত্র’ কাজ করছে। সংগঠনটির নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেন শেখ হাসিনা।
শেখ হাসিনা বলেন, সরকার ধৈর্য ধারণ করেছে। কারণ, সরকার সংঘাত চায়নি। তারা আগুন নিয়ে খেলছে। কিন্তু তাদের মাথায় রাখতে হবে, এক ঘর থেকে আগুন আরেক ঘরেও যেতে পারে। আজকে রেল স্টেশন থেকে শুরু করে ভূমি অফিস থেকে ডিসি অফিস সব জায়গায় যে আগুন দিয়ে বেড়াচ্ছে, তাদের মাদ্রাসা তাদের বাড়িঘর সেগুলোয় যদি আগুন লাগে তখন কি করবে? জনগণ কি বসে বসে এগুলো শুধু সহ্য করবে? তারা সহ্য করবে না।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, হেফাজতের সবাই যে এর মধ্যে জড়িত, তাও কিন্তু নয়। হেফাজতে ইসলামের জ্বালাও পোড়াওয়ের ঘটনার বেশ কিছু ছবিও জাতীয় সংসদে দেখান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সবাইকে ধৈর্য ধরে এগোতে হবে। ধর্মের নাম নিয়ে অধর্মের কাজ জনগণ কখনো মেনে নেবে না। জনগণ কখনো সহ্য করবে না। পবিত্র ধর্মকে কেউ অসম্মান করবেন, সেটা আমরা চাই না। এ ধরনের অপকর্মে যাঁরা জড়িত, আইনানুগ ব্যবস্থা তাঁদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার কওমি মাদ্রাসার সনদ দিচ্ছে। কারিকুলাম ঠিক করে দিয়েছে। তাঁরা দেশ-বিদেশে যাতে চাকরি পান, তার ব্যবস্থাও করে দিয়েছে। তারপরও তাঁরা এই তাণ্ডব কেন ঘটালেন। তারা তো দেওবন্ধে যাচ্ছে উচ্চ শিক্ষার জন্য । অগ্নিসংযোগ করলে কেমনে যাবে। পুলিশ ধর্য্যরে পরিচয় দিয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশগ্রহণের প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ওই অনুষ্ঠানে আমি গিয়েছিলাম। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়াও যান। সেখানে ফিলিস্তিনির প্রেসিডেন্ট ইয়াসির আরাফাত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দেখে হাত বাড়ালেন। খালেদা জিয়া হাত গুটিয়ে বসে থাকলেন, কিন্তু সেই খালেদা জিয়াকে দেখলাম মোদি সাহেবের সঙ্গে হ্যান্ডশেক করা ছবি। সেই হাত যেন আর ছাড়েনই না। তাঁর সঙ্গে টেলিফোনে সেই খিলখিল করা হাসির আওয়াজ, সেটাও সবার কানে বাজে। আবার সুবর্ণজয়ন্তীতে যখন মোদি আসবেন, সেখানে বাধা দেওয়া। আর হেফাজতের সঙ্গে হাত মেলানো কেন? এ প্রশ্নের জবাব কোত্থেকে পাব জানি না। তবে এই প্রশ্ন রেখে গেলাম।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ