১৩ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, রাত ১২:৫৭

ভাগ্যবান চুনকা

সংবাদচর্চা রিপোর্ট:

নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রথম মন্ত্রী হয়েছিলেন এমএ ছাত্তার। জাতীয় পার্টির আমলের শেষ পর্যন্ত তিনি সংসদের চীফ হুইপ ছিলেন। তার মৃত্যুর পর এ জেলার কোথাও একটি স্মরণ সভা হয়নি। একইভাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মতিন চৌধুরী, প্রতিষ্ঠাতাকালীন নগর কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হাসান জামাল, শ্রমিক নেতা কাসেম চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আনসার আলী, অধ্যাপিকা নাজমা রহমান, সহ সভাপতি শেখ মিজানুর রহমানসহ অনেক নেতাকে ভুলে গেছে তাদের দল। রফিক কমিশনার, নাজির কমিশনারের মতো নেতাকেও মনে রাখেনি বিএনপি। তবে এক্ষেত্রে ভাগ্যবান আলী আহাম্মদ চুনকা।

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য একেএম সামসুজ্জোহাকে স্মরণ করে তার সন্তানদের অনুগতরা। তাই তাদের পিতার মৃত্যুবার্ষিকীতে মিলাদ, ফেস্টুন, দোয়া হয়। সেসব অনুষ্ঠানে লোকজনও হয় প্রচুর। তবে ২০০১ ও ওয়ান ইলেভেনের সময়ে লোকজন কম দেখা গেছে। অপরদিকে সামসজ্জোহার ভাই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোস্তফা সারওয়ার স্মরণে নারায়ণগঞ্জে কোন অনুষ্ঠান হয়না। তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে ভারত থেকে দেশে এনেছিলেন। দলীয়ভাবে স্মরণ করা হয় না জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আনসার আলী, অধ্যাপিকা নাজমা রহমান, সহ সভাপতি শেখ মিজানুর রহমান খান, ডা. সাহাদাত হোসেন, শ্রমিক লীগ নেতা এমএ কুদ্দুস, সম্বল মিয়াদের। জিয়াউর রহমানের ক্ষমতাকালে শহরের ২ নম্বর রেলগেট কার্যালয়ে হামলায় নিহত শহীদ মনিরকে পর্যন্ত ভুলে গেছে দল।

সেদিক দিয়ে ভাগ্যবান শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার পৌর পিতা আলী আহম্মদ চুনকা। তার মৃত্যুর পর থেকেই প্রতি বছর অনেক লোক সমাগমের মধ্য দিয়ে নানা আয়োজনে মৃত্যু বার্ষিকী পালিত হয়। তার স্মরণে এসব আয়োজনে রাজনীতিকরা যেমন থাকেন তেমনি তরিকাপন্থি লোকজনের আগমন চোখে পড়ার মতো। এদিক দিয়ে অনেকটা দুর্ভাগা নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার আরেক চেয়ারম্যান নাজিমউদ্দিন মাহমুদ। বৃহত্তর ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও তুখোর বক্তা ছিলেন নাজিমউদ্দিন। ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত সৎ এই রাজনীতিক শহরের এক শ্রেনীর পুঁজিবাদি ও ষড়যন্ত্রকারীদের খপ্পড়ে পরে জীবিত থাকতেই রাজনীতি থেকে হারিয়ে যান বলে অভিমত বিশ্লেষকদের।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক স্বরাস্ত্রমন্ত্রী আব্দুল মতিন চৌধুরী, প্রতিষ্ঠাতা নগর বিএনপির নেতা হাসান জামাল, বিএনপি নেতা হানিফ কবীর, রফিক কমিশনার, নাজির কমিশনারদের ভুলে গেছে বিএনপি। তাদের স্মরণে দলের কোন কমিটি মিলাদ বা অনুষ্ঠান করে না। জিয়াউর রহমান যখন রাষ্ট্রপতি তখন তার শ্রম উপদেষ্টা ছিলেন শহরের আলম খান লেনের বাসিন্দা আবুল কাসেম চৌধুরী। তাকেও কখনও স্মরণ করেনি বিএনপি। তবে ২০০১ এ বিএনপি ক্ষমতাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে ক্রসফায়ারে নিহত মমিনউল্লাহ ডেবিডের কবরে ফুল দেয় কতিপয় নেতা।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হাজী জালালউদ্দিন শহরে জালাল হাজী নামেই পরিচিত। তার ছেলে এডভোকেট আবুল কালাম ১৯৯১ সালে নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনে প্রথম বিএনপির মনোনয়নে এমপি হন। এ আসনে তার বাবাও এমপি ছিলেন। ছেলে রাজনীতিতে থাকায় জালাল হাজীর নাম এখনও নেয় মানুষ।

নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ছিলেন এমএ ছাত্তার। যিনি এরশাদ সরকারের শ্রম ও জনশক্তি মন্ত্রী পরে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি রংপুরে হলেও অনেক আগে থেকেই নারায়ণগঞ্জে থিতু হন। নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের প্রথম বাঙ্গালী সভাপতি তিনি। রূপগঞ্জে তার মালিকানাধীন একটি পাটকল ছিলো। তিনি বেঁচে থাকতে তার মাসদাইর গোরস্থান এলাকার রংপুর হাউজে সব সময়ে মানুষের ভিড় লেগে থাকতো। তবে মৃত্যুর পর তাকে কেউ মনে রাখেনি। আর জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমেদ খোকা ওরফে খোকা মহিউদ্দিন রাজনীতি ছেড়ে দেন এরশাদ পতনের পরপরই। তার ছেলে ফয়েজউদ্দিন লাভলুকে সম্প্রতি আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে দেখা যায়।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ