৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, রাত ৯:৩৫

বাড়তি ভাড়ায় অতিষ্ঠ

সাবিত আল হাসানঃ

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে বাসে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। নামমাত্র সিট ফাঁকা রেখে বাসে চলে দাঁড়িয়ে যাত্রী বহন। অথচ বাস স্টাফরা বর্ধিত ভাড়া আদায়ে তৎপর। যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা এবং অর্থ অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত সেবা প্রদানে নেই মালিক শ্রমিক কারই আগ্রহ। বেশির ভাগ বাসে নেই হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ জীবাণুনাশক স্প্রে। দাঁড়িয়ে যাত্রী নেয়ায় মানা হচ্ছে না শারীরিক দূরত্ব। আর যাত্রী সাধারণ নীরবে সহ্য করে গুনে যাচ্ছেন বাড়তি ভাড়া।

যাত্রীদের দাবী, গণপরিবহনের শ্রমিকদের দাপট এতটাই বেশী যে তাদের কাছে জিম্মি হয়ে থাকতে হয় সন্মানের ভয়ে। ভাড়া কিংবা অন্য কোনো অনিয়মের বিষয়ে যাদের বিরুদ্ধে কথা বললেই হতে হয় লাঞ্ছনার শিকার। এমনকি ধাক্কা দিয়েও গাড়ি থেকে নামিয়ে দিতে দ্বিধাবোধ করেন না চালক-কন্ডাক্টর ও হেল্পাররা। আর এতে করে ঝামেলা এড়াতে যাত্রীরাও সরে এসেছেন প্রতিবাদী মানসিকতা থেকে।

করোনাকালে গণপরিবহনে সরকার ঘোষিত ৬০ শতাংশ বর্ধিত ভাড়া। যেই ভাঁড়া নির্ধারন করা হয়েছিল যাত্রীসেবার জন্য সেই ভাড়ার যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছেন যাত্রী সাধারণ। অথচ যাত্রীদের কাছ থেকে যে ভাড়া আদায় করার কথা ছিলো স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে। আর এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের ভ্রূক্ষেপ নেই বললেই চলে।

সরজমিনে যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বাড়তি ভাড়া গুনতে গুনতে অনেকটাই হাঁপিয়ে উঠেছেন যাত্রীরা। এর আগে করোনাকালীন যাত্রীসেবা দিতে গিয়ে পরিবহন মালিকদের ক্ষতি পোষাতে বাস ও মিনিবাসের ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। শর্ত ছিলো, সীমিতসংখ্যক যাত্রী নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিচালনা করতে হবে বাস। ৬৬ দিন লকডাউন শেষে গত ৩১ মে থেকে গণপরিবহন চলাচল শুরু এবং ১ জুন থেকে এই বাড়তি ভাড়া আদায় করতে বলা হয়েছিল প্রজ্ঞাপনে।

শুরুতেই হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ অন্যান্য শর্ত কিছুটা মানলেও ক্রমেই যাত্রীর চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শর্তের কথা ভুলে যায় গণপরিবহন সংশ্লিষ্টরা। অতিরিক্ত যাত্রী বহন শুরু করে সেই আগের মতোই। মানছে না হ্যান্ডস্যানিটাইজারসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষার অন্যান্য বিষয়াদি নিশ্চিত করার শর্তও। অফিস-আদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ সবকিছুই এখন স্বাভাবিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেও সরকার এখনো পর্যন্ত বাড়তি ভাড়ার বিষয়ে কোনো পদক্ষেপই গ্রহণ করেনি।

তবে শুরু থেকেই অতিরিক্ত ভাড়ার বিপক্ষে ছিলেন যাত্রীরা। তাদের ধারণা ছিলো, ভাড়া বেশি নিয়েও প্রজ্ঞাপনের শর্ত মানবেন না পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। আর বর্তমানে সেই আশঙ্কাই বাস্তবে রূপ নিয়েছে। বাড়তি ভাড়ার বিনিময়ে দুই সিটে একজন বসানো হলেও, সিট ভর্তির পরও দাঁড় করিয়ে যাত্রী বহন করছে বিভিন্ন বাস।
অনাবিল ও মৌমিতা বাসের যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাসে যাত্রী তুলে সিট ভরলেও দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠায় চালক হেলপাররা। এনিয়ে প্রায়ই তর্কবিতর্ক হয় বাসে। স্টাফদের খারাপ আচরনের কারনে বাধ্য হয়ে বাড়তি ভাড়াই দিতে হয়। কিন্তু স্বাস্থ্য সুরক্ষার বালাই নেই বললেই চলে। যদি সুরক্ষাই না পাই তাহলে এই লোকদেখানো সুরক্ষা প্রয়োজন নেই। আগে যেমন ছিলো তেমনই থাকুক। দ্রুত ভাড়া কমিয়ে আনার ব্যবস্থা করুক সরকার।

তবে এসব দিক থেকে ব্যতিক্রম রয়েছে বিআরটিসি ডাবল ডেকার, এসি ও শীতল বাস। অতিরিক্ত ও বিলাসবহুল বাস হওয়ায় এবং যাত্রীসেবা নিয়ে বেশ তৎপর থাকায় তাদের বিরুদ্ধে যাত্রীদের এমন অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

বিআরটিএর মতে, ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল বাস মালিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে। স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না এ ধরনের অভিযোগ আসায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানার আওতায় আনা হচ্ছে বাসকে। তবে ভাড়া কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ