আজ শুক্রবার, ১৫ই ফাল্গুন, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

তিন দিনে ৬ লাশ! আতঙ্কিত না’গঞ্জবাসী

 আমরা কাজ করছি- এসপি হারুন অর রশীদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
খুন, গুম, হত্যা ছাড়াও হাজারো অপকর্মে ছেয়ে গেছে নারায়ণগঞ্জ। ওইসকল ঘটনা গুলো নতুন কিছু না হলেও বর্তমানে ভয় পূর্বের চেয়েও আরও বেড়ে গেছে জেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে। প্রতিনিয়ত এমন ঘটনায় আতংকিত জেলার সকল স্তরের মানুষ। তারই ধারাবাহিকতায় জেলার তিন উপজেলায় গত ৩ দিনে মোট ৬টি লাশ পাওয়া গেছে। সদর, আড়াইহাজার ও সোনারগাঁ উপজেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে ৫টি লাশ উদ্ধার করেছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অচিরেই এসকল ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জনসাধারণের। তাদের দাবী, জড়িতদের আইনের আওতায় এনে এমন শাস্তি দেয়া প্রয়োজন যাতে করে আর এমন ঘটনা ঘটানোর পূর্বে অপরাধীদের বেশ কয়েকবার চিন্তা করে নিতে হয়।

সূত্র মতে, গত শনিবার (২ মার্চ) জেলার পৃথক দুইটি স্থান থেকে অজ্ঞাত তরুন-তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধার করে থানা পুলিশ।

ওইদিন সকালে শহরের জামতলা এলাকার হাজী ব্রাদার্স সড়কের একটি বাড়ির নিচ থেকে অজ্ঞাত (২৬) তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

ওই ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফজলুল হক জানান, সকালে ফতুল্লার জামতলা এলাকার একটি ভবনের নিচ তলায় এক তরুণীর লাশ পরে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। তরুণীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
একই দিন সকালে আবার সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের কাইকারটেক কাফুরদী এলাকা থেকে অজ্ঞাত (৩০) যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে সোনারগাঁ থানা পুলিশ।

এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, উপজেলা মোগরাপাড়া ইউনিয়নের কাফুরদী গ্রামের বক্ষ্রপুত্র নদীর পারে সকালে অজ্ঞাত যুবকের গলাকাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থালে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

জানা যায়, স্ত্রী পরিক্রিয়ায় বাধা দেয়ায় স্বামীকে নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করে প্রেমিক। ওই ঘটনায় তাকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে।

ওই দিনই আবার সদর উপজেলার ফতুল্লা থানাধীন দক্ষিণ কায়েমপুর এলাকার মৎস ভবনের পিছনে রবিউল মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া গার্মেন্টস কর্মী কুলসুম আক্তার (১৯) নামে এক তরুণীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে ফতুল্লা থানা পুলিশ। সূত্র জানায় পারিবারিক কলহ কিংবা প্রেম ঘটিত কোন বিষয়ের জের ধরেই তরুণী আতœহত্যা করেছে।
ওই ঘটনায় নিহতের বড় বোন জানান, কুলসুমের সাথে কারও কোন বিরোধ ছিলো না। ও কারও সাথে প্রেমও করতো না। সবসময় স্বাভাবিক ভাবেই থাকতো। কিন্তু সন্ধ্যায় দেখি হঠাৎ করে ঘরের ভিতর থেকে বন্ধ করা। পরে দরজা ভাঙার পর ওর লাশ সে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়।

এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের উপ পরিদর্শক মইনুল বলেন, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসি এবং দেখতে পাই একটি ঘরের মধ্যে এক তরুণীর ঝুলন্ত লাশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য আমরা লাশ মর্গে পাঠিয়েছি। তবে আতœহত্যা না হত্যা তা ময়না তদন্তের পর জানা যাবে।

ওই তিন লাশ উদ্ধারের পরদিন অর্থ্যাৎ রবিবার (৩ মার্চ) আড়াইহাজার উপজেলার উচিৎপুরা ইউনিয়ন পরিষদের জাঙ্গালিয়া চেঙ্গাকান্দি গ্রামের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ।
ওই ঘটনায় বস্তাবন্দি অজ্ঞাত সেই যুবকের লাশের পরিচয় এখনো মেলেনি। এমনকি মৃত্যুর কারণ এখনও পর্যন্ত বলতে পারেনি পুলিশ। তবে লাশের পরিচয় এবং মৃত্যুর কারণ জানার জন্য চেষ্ট চালিয়ে যাচ্ছি আমরা।
এ বিষয়ে আড়াইহাজার থানা পুলিশের উপ পরিদর্শক ফইজুল জানান, নিহতের পরিচয় এখনো পর্যন্ত শনাক্ত করা যায়নি। যার ফলে মুত্যুা রহস্যটাও বের করা যাচ্ছেনা।

গতকাল সোমবার (৪ মার্চ) সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা মনিরের মাছের খামার থেকে অজ্ঞাত এক ব্যাক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে । সোমবার সকালে পানিতে লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয় জনতা পুলিশে খবর দিলে ফতুল্লা থানার এস আই শুভ আহমেদ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে । লাশের এক পায়ে শিকল বাধা ছিল।
এ বিষয়ে পুলিশ জানায়, অজ্ঞাত ব্যাক্তির বয়স আনুমানিক ৩২ বছর তার শরীরে আঘাতের কোন চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত জানানো যাবে ।

সর্বশেষ সদর উপজেলার ফতুল্লার কুতুবপুর এলাকার আনোয়ার হোসেন মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া রফিকুল ইসলাম কুট্টি (৩২) নামে এক যুবকের লাশ পাওয়া গেছে। সূত্র জানায়, যদিও ওই লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে কিন্তু ওই ব্যাক্তির মৃত্যুা রহস্যজনক।

জানা যায়, রফিকুল ইসলাম কুট্টি পেশায় একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন। একাধিকবার সে পুলিশের হাতে মাদকে সহ ধরা পড়েছিলো। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।

এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মামুনুল আবেদ বলেন, আমার কাছে লাশ দেখার পুর যতটুকু মনে হয়েছে তা হলো নিহত যে কোন কারণে আতœহত্যা করেছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। বাকিটুকু ময়না তদন্তের রিপোর্টের উপর নির্ভর করে বলা যাবে।

এই সকল বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ দৈনিক সংবাদচর্চা পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদককে মুঠোফোনে বলেন, আমাদের কাজ হলো অপরাধ হওয়ার পর সেসকল ঘটনা গুলো খুজে বের করা।