১৩ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, ভোর ৫:০৭

এবার মীর জুমলার পালা

সংবাদচর্চা অনলাইনঃ

শহরের মীর জুমলা সড়কে প্রতিদিন তিন দফা চাঁদা তুলে ইজারাদারের ঘনিষ্ঠজনরা। সড়কে বসার জন্য, ময়লা সরানোর জন্য ও অবৈধ বিদ্যুত সংযোগ দিয়ে এ চাঁদা নেয় তারা। দোকানীদের দেয়া তথ্য মতে, চাঁদা তোলার দায়িত্বে থাকা ২জনই বাজারের ইজারাদার ফাইজুল ইসলাম রুবেলের সহযোগী। এ রুবেল পরিবহন নেতা প্রয়াত আমিনুল সেক্রেটারীর ছেলে ও শহর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক উজ্জলের বেয়াই। এদিকে হকার উচ্ছেদ শুরু হওয়ার পর সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে, মীর জুমলার অবৈধ দখলদারদের সরানো হবে কবে। উল্লেখ্য, এর আগে একাধিকার উচ্ছেদ করা হলেও দখলদাররা পরে আবার দখল করে নেয়।

ভুক্তভোগীদের মতে, শহরের বঙ্গবন্ধু সড়ক থেকে শুরু হয়ে সিরাজউদ্দৌল্লা সড়ক পর্যন্ত মীর জুমলা সড়ক দখলদার মুক্ত থাকলে কর্মজীবি ও শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের উপকার হয়। গলাচীপা, নন্দিপাড়া, উকিলপাড়া, বঙ্গবন্ধু সড়কের বাসিন্দাদের মধ্যে যারা নারায়ণগঞ্জ কলেজ, নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুলে পড়ে তারা এ সড়ক দিয়ে হেটে যেতে পারেন। মূল সড়কে জ্যাম থাকলেও তারা নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌছাতে পারেন। কর্মজীবীদের বেলায়ও এ কথা প্রযোজ্য। একাধিক নারী জানান, এ সড়কটি মুক্ত থাকলে আমরা সন্তানদের নিয়ে হেটে স্কুলে যেতে পারি। প্রয়োজনে পাশের দ্বিগুরবাবুর বাজার, ফলপট্টিতে কেনাকাটা করতে যেতে পারি। তারা আক্ষেপ করে বলেন, কতবার এ সড়কে উচ্ছেদ হলো কিন্তু বেশি দিন সে সুফল আমরা ভোগ করতে পারি না।

জানা গেছে, অসত বাবু ওরফে রতন বাবু ও রাসেল নামে দুইজন মীর জুমলা সড়ক থেকে চাঁদা তোলে। তারা সকাল, দুপুর ও রাতে মিলিয়ে ৪ শতাধিক ভ্রাম্যমান দোকান থেকে খাজনার নামে চাঁদা উঠায়। একই সাথে ও অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে ও ময়লার নামে আরেকধাপ চাঁদা তোলাহয়।
নাসিক সূত্রে জানা গেছে, দিগুবাবুর বাজারের ইনস্টিটিউট রোড ভ্যাটসহ ৯৯ লক্ষ টাকায় ফাইজুল ইসলাম রুবেল বাজারের টেন্ডার নেন। ইনস্টিটিউট রোড সড়কের টেন্ডার নিয়ে মীর জুমলা সড়ক থেকে চাঁদাবাজি উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে ঠিকাদার ফাইজুল ইসলাম রুবেলসহ তার লোকজনের বিরুদ্ধে। তারা কোন প্রকার টেন্ডার ছাড়াই মীর জুমলা সড়কে অবৈধ ভাবে চটি বসিয়ে প্রতিদিন দিনে ২ থেকে ৩ বার চাঁদা উত্তোলন করে রতন ও রাসেল।

বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, মীর জুমলা সড়ক দখল করে ডাবল টাকা চাঁদাবাজি করে। তারা নারায়ণঞ্জের প্রভাবশালী এক নেত্রীর আত্মীয় পরিচয় দিয়ে তাদের এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ইজারাদারের লোকেরা দিনে ২ থেকে ৩ বার টাকা নেয়। সকালে নয়ন সুপার মার্কেটের নামনে বঙ্গবন্ধু সড়ক থেকে শুরু করে পুরো মীর জুমলা সড়কে চাঁদা উত্তোলন করে। সকাল ১০ টার পর ফলের দোকানসহ আরেক গ্রুপ বসে। বিকালে মাছের গ্রুপ । তাদের প্রতিটি দোকান থেকে আরও দুই ধাপে চাঁদা নেয় তারা। বাজারের শেষ মাথায় কাসমেরী নামে এক নারীর কাছ থেকে প্রতিদিন ৩ হাজার টাকা জোড় করে চাঁদা নেয় ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর প্রধান সড়ক বঙ্গবন্ধু রোড এবং নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা রোডের সংযোগ সড়ক হিসেবে নির্মাণ করা হয় মীর জুমলা সড়ক। তবে সড়ক হলেও এখান দিয়ে কোন গাড়ি চলতে পারে না। কাঁচাবাজার ও নিত্যপণ্যের পসরার দোকানীরা গোটা সড়ক দখল করে রাখে। ভোর রাত থেকে তিন ধাপে অবৈধ দোকান বসে সড়কে। ময়লা আবর্জনার স্তুূপ আর ভাসমান কাঁচামাল, মাছ বিক্রেতাদের দখলের দৃশ্যপট দেখা যায় সড়কটিতে।

এ প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ নাগিরক কমিটির নেতারা জানান, মীর জুমলা সড়ক দখলের সাথে জড়িত রয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশরে কর্মচারী, পুলিশ, মাস্তান। এমন কি প্রভাবশালীর পরিচয় দেয় অনেকে। কেই তাদের চাঁদা উঠানো বন্ধ করতে পারেনি। পুলিশ প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনও পারেনি মীর জুমলা সড়ক রক্ষা করতে।
বাজারের ঠিকাদার ফায়জুল ইসলাম রুবেল এর মোবাইল ফোনে কল দিলেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে জানতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাসের মুঠো ফোনে অনেকবার ফোন করা হয় তবে তিনি তা রিসিভ করেনি।

এ প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম সংবাদচর্চাকে জানিয়ে ছিলেন, মীর সড়কে দোকান বসার বিপক্ষে পুলিশ। পুলিশ অভিযান করে কিন্তু তারা ফের বসে যায়। এখানে স্থায়ী সমাধান করতে হলে জনপ্রতিনিধি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতা প্রয়োজন।
সচেতন মহলের মতে, শহরে হকার উচ্ছেদ করে সুনাম অর্জন করেছে পুলিশ। এবার ক্ষমতাবানদের দখলে থাকা মীর জুমলা রোডে অভিযান চালানো দরকার।

সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা থাকাকালে মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী এ সড়কের অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করার চেষ্টা করেছিলেন। তারপরও বহাল ছিল অবৈধ দখলদাররা। এর পর বহুল আলোচিত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ হারুন অর রশীদের নির্দেশে উচ্ছেদ করা মীর জুমলা সড়কের দোকানপাট। তিনি বদলি হয়ে যাওয়ার পরপরই দোকান মালিকরা আবারও রাস্তাটি দখল করে নেয়।

এছাড়া মীর জুমলা সড়ক নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান অভিযোগ করে বলেছিলেন, ওই সড়কে চকি বসাইলে কে কতো টাকা নেয়, কারা নেয় সবটাই জানি। ওই দিগুবাবুর বাজারের মীর জুমলা রোডে সকালের চকি ৮শ’ টাকা আর রাতের চকি ১ হাজার টাকা। ছোট একটা চকি দৈনিক ১৮শ’ টাকা চাঁদা দেয়। তার এ বক্তব্যের একদিন পর নগরীর মীর জুমলা সড়কে দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান চালায় পুলিশ ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন। তখন কয়েক দফা অভিযান চালিয়ে রাস্তাটি দখল মুক্ত করা হয়।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ