আজ মঙ্গলবার, ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২৩শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

একজন গরীবের বন্ধু

লিয়াকত হোসেন খোকা। সদা হাস্যজ্জল ও সদালাপি এই এমপি সোনারগাঁয়ের মানুষের হৃদয় জয় করে নিয়েছেন বহু আগেই। হোক রিকশা ওয়ালা, কৃষক কিংবা দিনমজুর; নির্দিধায় তিনি সকলকে বুকে জড়িয়ে নেন। নিজ আসনের মানুষদের সুখে দুঃখে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন একজন প্রকৃত বন্ধুর ন্যায়। খেটে খাওয়া মানুষেরাও তার মাঝে আস্থা খুঁজে পান। তাইতো সোনারগাঁবাসী তাকে ‘গরীবের বন্ধু উপাধী’ দিয়েছেন।

প্রাচিন বাংলার রাজধানী ছিলো ঐতিহাসিক সোনারগাঁ। তবে বিগত সময়ে এখানে উন্নয়নের ছোঁয়া সেভাবে পরেনি। রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত অবস্থা ছিলো নাজুক। কিন্তু উন্নয়নে পিছিয়ে থাকা সেই জনপদ এখন এমপি লিয়াকত হোসেন খোকার বদান্যতায় পাল্টে গেছে। বিগত প্রায় ১০ বছরে তিনি সোনারগাঁয়ের উন্নয়নের জন্য নিরলস ভাবে কাজ করে গেছেন।

জানা গেছে, ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোট থেকে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতিক নিয়ে তিনি নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন তথা সোনারগাঁয়ের এমপি নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় নির্বাচনেও খোকার প্রতি আস্থা রাখেন মহাজোটের শরীক দলগুলো। কথিত আছে, নিজ দল জাতীয় পার্টির নীতি-নির্ধারকরাতো বটেই খোদ আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এমপি লিয়াকত হোসেন খোকার প্রতি আস্থাশীল ছিলেন। তাই বিনাবাক্যে ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে মহাজোট থেকে এমপি লিয়াকত হোসেন খোকাকেই সমর্থন করেছেন। লিয়াকত হোসেন খোকাও নিজ দলের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থা ও সমর্থনের প্রতিদান দিয়েছেন। তিনি সোনারগাঁয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করে গেছেন। তার হাত ধরেই বিগত প্রায় ১০ বছরে আমূল পরিবর্তন এসেছে ওই জনপদের।

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র ৪ মাসেরও কম সময় বাকি আছে। এবারের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি মহাজোট বা আওয়ামী লীগের সাথে অংশ নিবে কিনা তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফলে সোনারগাঁয়ে নৌকা প্রতিক চেয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা নিজেদের মত করে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে নৌকা প্রত্যাশীদের সংখ্যা এতটাই বেশি যে, নির্বাচনের প্রাক্কালে স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতি এখন ১০ থেকে ১২ ভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই পরিস্থিতিতে সোনারগাঁয়ে নৌকা নিরাপদ কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তোলাই যায়। এক্ষেত্রে সার্বিক বিবেচনায় এবারও হয়তো মহাজোট থেকে প্রার্থী নির্ধারণ করা হতে পারে। জোটগত দিক থেকে ঐক্য হলে সোনারগাঁয়ে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নীতি-নির্ধারকদের প্রথম পছন্দ হবেন লিয়াকত হোসেন খোকা। তবে, যদি আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মাঝে জোট না-ও হয় তাহলেও লাঙ্গল প্রতীকের জন্য এমপি লিয়াকত হোসেন খোকার সমকক্ষ বা প্রতিদ্ব›দ্বী করার মত সোনারগাঁয়ে জাতীয় পার্টির কোনো প্রার্থী নেই। ওই আসনে জাতীয় পার্টির জন্য লিয়াকত হোসেন খোকা একক এবং অনন্য। এক্ষেত্রে জাতীয় রাজনীতির সমিকরণ যেমনই হোক, আগামী দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে সোনারগাঁয়ে সবচেয়ে হেভীওয়েট প্রার্থী হবেন লিয়াকত হোসেন খোকা। তার সামনে রয়েছে হ্যাট্টিক চান্স।

জানা গেছে, লিয়াকত হোসেন খোকা সোনারগাঁয়ে জাতীয় পার্টিকে সু-সংগঠিত করে তুলেছেন। প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে সম্মেলন হয়েছে। তাছাড়া, এমপি খোকা প্রতিটি পাড়া মহল্লায় উন্নয়ন করেছেন। সাধারণ মানুষের সাথে মিশে গেছেন। তাই সোনারগাঁয়ে লিয়াকত হোসেন খোকার জনসমর্থন যেমন রয়েছে, তেমনই জাতীয় পার্টির এবং নিজস্ব ভোট ব্যাংক তৈরী করতে সক্ষম হয়েছেন। এক্ষেত্রে আগামী নির্বাচনে সোনারগাঁয়ে লিয়াকত হোসেন খোকার নির্বাচনি মাঠ এখন সবচেয়ে পোক্ত হয়ে উঠেছে।

প্রাপ্ত তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, সোনারগাঁয়ের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য ব্যপক ভূমিকা রেখেছেন এমপি খোকা। এর মধ্যে সোনারগাঁয়ে প্রায় ৭০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে আরও ১০টি বিদ্যালয়ের কাজ চলমান এবং ১৭টি বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের ডিও মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিদ্যালয়গুলোতে শতভাগ বিদ্যুতায়নের ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানি, কিছু বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাট, শহীদ মিনার, ক্ষুদ্র মেরামত, বেঞ্চ সহ প্রায় শত কোটি টাকার উপরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য উন্নয়ন করেছেন লিয়াকত হোসেন খোকা।

শুধু কী তাই? সোনারগাঁয়ে ৪৪টি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৪১টি মাদ্রাসা ভবন সম্প্রসারন, ৪ তলা নতুন ভবন, গুরুত্বপূর্ন বিদ্যালয়গুলোতে বাউন্ডারি ওয়াল, বিশুদ্ধ পানি, মাঠ ভরাট সহ আরও প্রায় শত কোটি টাকার কাজ সম্পন্ন হয়েছে একপি খোকার হাত ধরে। চলমান রয়েছে আরও বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাজ। এছাড়াও এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা সোনারগাঁ ডিগ্রী কলেজ ও মোগরাপাড়া এইচ জি জি এস স্মৃতি বিদ্যালয় সহ বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে তিনি তার নিজ প্রচেষ্টায় সরকারি করণ করেছেন।

শিক্ষাখাতে যেমন ভূমিকা রেখেছেন, তেমনই স্থানীয় জনপদেও অভাবনীয় উন্নয়ন সাধিত হয়েছে লিয়াকত হোসেন খোকার অগ্রণি ভূমিকায়। এর মধ্যে প্রায় ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নুনেরটেকে মেঘনা নদীর তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার বিষয়টি দেশজুড়ে আলোচনায় এসেছে। এছাড়াও

গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফুটওভার ব্রিজ, মারীখালী ব্রীজ, লাঙ্গলবন্দ ব্রিজ ও কাচঁপুর ব্রিজের নিচ দিয়ে সোনারগাঁও অংশে আধুনিক ইউলোপ নির্মাণ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কাজের অংশ হিসেবে কাচঁপুর ২য় সেতু ও মেঘনা ২য় সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বহুল কাঙ্খিত ও জনগণের স্বপ্নের হরিহরদী সেতু, মান্দারপাড়া সেতু, ভাটিবন্দর সেতু, রতনপুর সেতু, বাংলাবাজার সেতু, প্রেমের বাজার সেতু, হামছাদী সেতু, আনন্দ বাজার সেতু, চৌরাপাড়া, কাজীপাড়া, পঞ্চমীঘাট উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন সহ ছোট বড় সবমিলিয়ে ৫৭টি সেতু ও কালভার্ট করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় ২৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ পল্লীসড়ক উন্নয়ন এবং ৬০০ মিটারের মত সেতু কালভার্ট করা হয়েছে।

পাশাপাশি সোনারগাঁও লোকশিল্প ফাউন্ডেশনের আওতায় সোনারগাঁ জাদুঘরে ১৩৮ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। ঐতিহ্যবাহী পানাম নগরের রক্ষনাবেক্ষন কাজ করা হয়েছে।

নোয়াগাঁও ইউনিয়ন একটি গ্রামীন বাজার, আশ্রয়কেন্দ্র ও চরকিশোরগঞ্জ এ আরেকটি আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে।

এছাড়াও উপজেলা পরিষদের নতুন ভবন, বাউন্ডারী ওয়াল, গেইট, থিম পার্ক, পানির ফোয়ারা, উপজেলা পরিষদের অভ্যন্তরে রাস্তা, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি সহ আনুসাঙ্গিত উন্নয়ন কাজ সাধিত হয়েছে।

এছাড়াও উপজেলা ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন ও এডিপি থেকে বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, বিদ্যালয় ও প্রত্যন্ত গ্রামের কাঁচা রাস্তাগুলো আরসিসি ও অন্যান্য উপায়ে উন্নয়ন করা হয়েছে। কয়েকটি ঈদগাহ পাকা করণ, কবরস্থানের লাশ ঘর নির্মান, সেলাই মেশিন বিতরণসহ নানা কার্যক্রমে প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, বিজয় স্তম্ভ, বিজয় পার্ক, ৮ জন মুক্তিযোদ্ধার বাসভবন, ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা অফিস মেরামত, সনমান্দি ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা একতলা ভবন সহ এই খাতে প্রায় ৫ কোটি টাকার উন্নয়ন করা হয়েছে।

এমপি খোকার নির্দেশনায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের মাধ্যমে হাজারেও অধিক নতুন মাটির রাস্তা, ইটের সলিং, রাস্তা মেরামত, মসজিদ উন্নয়ন, হেরিং বন্ড সহ ৭০ কোটির অধিক টাকার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

এদিকে, সরকারী ফান্ড ছাড়াও এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা তার নিজস্ব অর্থায়নে ৫০টির অধিক বড় মাটির রাস্তা এবং গ্রামীন জনপদের নানা উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, লিয়াকত হোসেন খোকা বিগত সাড়ে নয় বছরে যেই উন্নয়ন করেছেন তা বিগত ২০ বছরেও হয়নি। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে অনেকেই তাকে নিয়ে সমালোচনা করতে চান। আগামী নির্বাচনে সোনারগাঁয়ের মানুষ ভোটের মাধ্যমে এসবের জবাব দিবেন।

জানা গেছে, করোনা মহামারির সময় মানুষ যখন খাদ্যসহ নানা সংকটে ছিলেন, তখন গরীবের বন্ধু হিসেবে তিনি সোনারগাঁয়ের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ব্যক্তিগত অর্থায়নে মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে খাবার পৌঁছে দিয়েছেন। এমনকি তিনি তার ব্যক্তিগত সম্পদ বিক্রি করে করোনাকালে সোনারগাঁয়ের মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন।

সোনারগাঁয়ের সার্বিক উন্নয়ন এবং জনসম্পৃক্ততার বিষয়ে লিয়াকত হোসেন খোকা বলেন, মহান আল্লাহ আমাকে এই সোনারগাঁয়ের মানুষের খাদেম হিসেবে পাঠিয়েছেন। আমি আল্লাহ তায়ালার দেয়া সেই দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি মাত্র। আমি আমার নির্বাচনি এলাকার সর্বস্তরের মানুষদেরকে আমার পরিবারের সদস্য মনে করি। তারা আমাকের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। আর যারা আমাকে ভোট দেয়নি আমি তাদের এমপি। তাই আমি কোনো ভেদাভেদ তৈরী করিনি। সবাইকে বুকে জড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছি। সোনারগাঁয়ের মাটি ও মানুষের জন্য কাজ করেছি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই দেশের মানুষের জন্য স্বপ্ন দেখতেন, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি পল্লী বন্ধু হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদও এই দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। বর্তমানে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেই ভিশন নিয়ে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা শুরু করেছেন, আল্লাহর কৃপায় আমি সোনারগাঁয়ে সেই অগ্রযাত্রাকে বেগবান করার দায়িত্ব পেয়েছি। আমি প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতায় সোনারগাঁয়ে উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছি। আমার উদ্দেশ্য ছিলো সোনারগাঁয়ের মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়া, সেই লক্ষ্যেই কাজ করে গেছি এবং আগামীতেও করবো ইনশাআল্লাহ।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ