৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, রাত ৮:৫৫

আনন্দে কাঁদলেন রায়হানের মা

সংবাদচর্চা রিপোর্ট:

ছেলেকে বার বার ঝাপটে ধরছেন আর চুমু খাচ্ছেন। কিছুক্ষন পর মুখপানে তাকিয়ে দেখছেন। এরই মধ্যে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে কথা বলছিলেন মালয়েশিয়ায় পুলিশের হাত থেকে মুক্ত হওয়া রায়হান কবিরের মা। শনিবার ছেলে বাড়ি ফেরার পর হাসি মুখে তিনি বললেন, দেশে ফিরেছে এখন ছেলে যা ভালো মনে করে তা করবে। আগের মতো মানুষের জন্য কাজ করবে।

অভিবাসী শ্রমিক নিয়ে আল জাজিরায় বক্তব্য দেয়ার কারনে মালয়েশিয়ান পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিলো রায়হান কবিরকে।মাসখানেক সেখানকার পুলিশি হেফাজতে ছিলেন তিনি। গ্রেপ্তারের পর থেকেই গোটা বিশ্বে সমালোচনা শুরু হয়। এর প্রেক্ষিতে শুক্রবার মালয়েশিয়ান পুলিশ তাকে মুক্তি দেয়। শনিবার ভোরে নারায়ণগঞ্জে নিজের বাড়িতে ফিরেছেন তিনি। তাকে পেয়ে আনন্দে উচ্ছ্বসিত তার পরিবার। বাবা শাহ্ আলম ও মা রাশিদা বেগমের বক্তব্যেই ফুটে ওঠে এমন চিত্র।

গতকাল সকালে নারায়ণগঞ্জের বন্দরের শাহী মসজিদ এলাকায় রায়হান কবিরের বাড়িতে এ প্রতিবেদকের সাথে কথা বলেন তারা। মা রাশিদা বেগম বলেন, ছেলেকে পেয়ে আমি মহা খুশি। আল্লাহ’র কাছে লাখ লাখ শুকরিয়া। ছেলেকে ফেরত পাবো ভাবিনি। মিডিয়াসহ সবাই আমার ছেলের পাশে দাড়াইছে, তাই আমি আমার ছেলেরে নিজের কাছে পাইছি। সবার জন্য আমি দোয়া করি। সব মায়ের সন্তান ভালো থাকুক এই কামনা করি।

সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে রাশিদা বেগম বলেন, আমি তো আমার ছেলেকে ফেরত পাইছি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে আমি একটা কথা বলতে চাই। অনেক মায়ের ছেলে বিভিন্ন দেশের আনাচে-কানাচে পইড়া আছে। তাদের দেখার কেউ নাই। তাদের খোঁজও কেউ নেয় না। সবাই তো মায়ের সন্তান। প্রবাসী সরকার ও আমাদের দেশের সরকার যদি সুদৃষ্টিতে তাকায় তাহলে আমার মতো সব মায়ের মন ঠান্ডা থাকবে।

রাশিদা বেগম জানান, গত বছরের সেপ্টেম্বরের চার তারিখ ছুটি শেষে আবার মালয়েশিয়ায় যান রায়হান কবির। এরপর চলতি বছরের ২৪ জুলাই মালয়েশিয়া পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি। এ খবর পাওয়ার পর থেকে মা ছিলেন দুশ্চিন্তায়। তিনি বলেন, এই কয়টা দিন আমার খুব খারাপ কেটেছে। কিছুই খাইতে পারি নাই। কোন ক্ষুদা ছিল না। এখন আমার ছেলে আসছে এই খুশিতেই আমার পেট ভরে গেছে। এই বলেই কাঁদলেন রায়হান কবিরের মা। বলেন, ‘এই কান্না আমার আনন্দের কান্না। আমি আমার ছেলেকে কাছে পাইছি এতে আমি মহা খুশি।’

তিনি আরও বলেন, এখন আমার ছেলে দেশে ফিরেছে। এখন সে যা ভালো বোঝে তা করবে। তার কাজকর্মে আমরা কোন বাধা দেব না। সে নিজেরটা ভালোই বোঝে। মানুষের জন্য যেভাবে আগেও কাজ করছে এখনও সেরকমই করবে।

বাবা শাহ্ আলম ফতুল্লার বিসিক শিল্পনগরীর একটি রপ্তানিমুখী কারখানায় চাকরি করেন। ছেলে ফিরবেন শুনে শুক্রবার রাতেই ছুটে যান ঢাকায় এয়ারপোর্টে। রাত দেড়টার দিকে বাংলাদেশে নামার পর ইমিগ্রেশনের কাজ শেষে আড়াইটার দিকে ছেলেকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে রওয়ান হন শাহ্ আলম। বাড়িতে ফেরেন ভোর সোয়া ৫টায়।

সকালে রায়হান কবিরের বাবা শাহ্ আলম এ প্রতিবেদককে বলেন, ৩ জুলাই থেকে পলাতক ছিল আমার ছেলে। ২৪ জুলাই সে গ্রেপ্তার হলো। পরে শুনলাম রিমান্ডে দিয়েছে। অনেক মানসিক দুশ্চিন্তায় ছিলাম আমরা। এখন আমার ছেলে মুক্ত হয়ে ফিরে এসেছে, এর চেয়ে বেশি কিছু চাই না। সকলের দোয়া ও চেষ্টায় আমি আমার ছেলেকে ফিরে পাইছি। সকলকে ধন্যবাদ জানাই আমি।

রায়হান কবিরের বাড়ি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের শাহী মসজিদ এলাকায়। বাবা শাহ্ আলম ফতুল্লার বিসিক শিল্পনগরীর এবিএফ নিটওয়্যার নামে একটি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। ২০১৪ সালে নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে রায়হান। পরে মালয়েশিয়া গিয়ে পার্টটাইম চাকরির পাশাপাশি পড়াশোনা করছিল সে। সেখানে বিএ পাস করার পর গত ঈদুল ফিতরের আগে একটি কোম্পানিতে স্থায়ী চাকরি হয় তার। কিন্তু কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরায় সাক্ষাৎকার দেওয়ার পর বিপাকে পড়েন রায়হান কবির।

স্পন্সরেড আর্টিকেলঃ